Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    এমপি পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট || ফকিরাপুলে ডাস্টবিন থেকে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা ৫৫ রাউন্ড গুলি ও একটি গ্রেনেড উদ্ধার || দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম না কেনার সিদ্ধান্ত ছাত্রদলের || সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ সংসদ সদস্যের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন || ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত : বিজিবি মহাপরিচালক ||  আগামী উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না: রুহুল কবির রিজভী || ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কক‘স্বামী-স্ত্রীর মতো’ :ররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন || বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর অভিনন্দন বার্তা || বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বিবৃতি || হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা জিকে গউছসহ ১৪ জন জেলে ||

    আইন অমান্য করে ‘শিশুখাদ্য কর্নার’

    November 16, 2014

    pnbd24:-সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য। দৃষ্টি আকর্ষণের সব রকম চেষ্টা হয়েছে। লিখে রাখা হয়েছে, ‘শিশুখাদ্য কর্নার’, ‘নিউট্রিশন হাইজিং কর্নার’, কিংবা ‘বেবি ফুড’- ইত্যাদি। প্রক্রিয়াটি ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও উহা ব্যবহারের সরাঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩’ অনুযায়ী দণ্ডনীয়। ৪ নম্বর ধারায় এগুলো নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও এভাবে চলছে শিশুখাদ্য নিয়ে ব্যবসা। যেখানে ৬ মাসের নিচের শিশুদের বুকের দুধ ছাড়া অন্যকিছু না খাওয়ানোর কথা বলা হচ্ছে, এদের জন্য নির্দিষ্ট করে খাদ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে শূন্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নবজাতক ও শিশুদের খাদ্যের কথা বলে দেদার চলছে পণ্য বিক্রি। সর্বত্র আইন অমান্যের প্রতিযোগিতা চললেও কেউ সেটা দেখছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও বিষয়টি বেমালুম ভুলে গেছে। মহানগর, জেলা ও উপজেলা শহরের সুপারশপ অথবা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে নির্ভয়ে চলছে শিশুখাদ্য পণ্যের বাজারজাত ও বিক্রি। পিছিয়ে নেই কনফেকশনারি ও ওষুধের দোকানগুলোও। এমন চিত্র দেখা গেল সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে। এ উপজেলায় স্থানীয় পর্যায়ের দোকানগুলোতে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইনের লঙ্ঘন প্রতিরোধে উদ্যোগ নেই। তবে আইন অমান্যকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে বালাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৩-৪ মাস পরপরই আমরা অভিযান চালাই। জেল-জরিমানাও করি। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুনাফার প্রবণতা এতটাই বেশি যে, তারা আবার সেই একই কাজ করেন। জেনেও আইন অমান্য করেন। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন হলেও বিধিমালার অভাবে তা প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। যা হচ্ছে সেটি মোবাইল কোর্ট আইনে। ফলে সুফল আসছে না। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের শিশুপুষ্টি প্রোগ্রামের প্রধান রাইসুল হক বলেন, শুধু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নয়, আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দোষীদের বিচারের আওতায় এনে সেটিকেও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ঘনঘন কর্মশালা, বৈঠকের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
    বাজার ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন কোম্পানির আইন অমান্যের তীব্র প্রতিযোগিতা। প্রতিটি কোম্পানির পণ্য  সাজিয়ে রাখা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন করে। ক্রেতারা এলে বিক্রেতা পণ্যের গুণগান গেয়ে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। এ প্রতিবেদক তাজপুরের কদমতলায় পাঁচতারা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ক্রেতা সেজে ৫ বছরের নিচের বয়সের শিশুর দুধ বা কোন খাবার আছে কিনা জানতে চান। এ সময় তার কাছে কয়েকটি কোম্পানির পণ্য (কৌটা) ধরিয়ে দেয়া হয়। বলা হয়, এগুলো খাওয়াতে পারেন। তবে ওই দোকানের কর্মচারী কিংবা ম্যানেজার শিশুখাদ্যের নামে এভাবে সাজিয়ে রেখে এবং নির্দিষ্ট করে পণ্য বিক্রি যে আইনত দণ্ডনীয়, এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। বালাগঞ্জ ও গোয়ালা বাজারেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। বাজারে থাকা পণ্যগুলোর কৌটার মধ্যে আইন অনুযায়ী বড় করে বাংলায় ‘মায়ের দুধের বিকল্প বা উহার সমক্ষক কিছুই নাই’ লিখা থাকার কথা। প্রায় সব কৌটায় তা থাকলেও আকার ছোট এবং নিচে। মোড়কে মা কিংবা কার্টুনের ছবিও না থাকার নিয়ম। কিন্তু বেশির ভাগেরই কোন না কোন ছবি আছে। নেসলের পণ্য ল্যাকটোজেনে মা-পাখি ও দুটো ছানার ছবি দেখা গেছে। একটি পাখির বাসা বানিয়ে যে ছবিটি দেয়া হয়েছে সেটি আইন সম্মত নয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বাজারে বর্তমানে কৌটা ও প্যাকেটে ১ থেকে ৩টি ফর্মুলায় শিশুখাদ্য বিক্রি হচ্ছে। পণ্যগুলো হচ্ছে, বায়োমিল, ল্যাকটোজেন, বেবি কেয়ার, ডিলাক, প্রিমা, সেরেলাক, এলডোরিন ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে ফর্মুলা-১ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে শূন্য থেকে ৬ মাসের শিশুর জন্য, ফর্মুলা-২ রাখা হয়েছে ৬ থেকে ১২ মাসের শিশুর জন্য এবং ১২ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য ফর্মুলা-৩। এই ফর্মুলাও আইনত দণ্ডনীয়। কিন্তু প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় বসে তা অমান্য করে চলেছে কোম্পানিগুলো। শিশুপুষ্টি বিশেজ্ঞ প্রফেসর ডা. এস কে রায় বলেন, কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা যা করছেন তা অন্যায়। শিশুদের সঙ্গে এই প্রতারণা তারা করতে পারেন না। তারা উপহার সামগ্রী প্রদান, লিফলেট বিতরণসহ নানা কিছু করছেন যা আইনত দণ্ডনীয়। নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রতারণা থেকে বেরিয়ে এসে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ব্যবসা করলে শিশুদের নিয়ে অবৈধ ব্যবসা করা যেত না।

    Print Friendly, PDF & Email