Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    কোনো কেন্দ্রে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়ার বিষয়টি আমি বাস্তবসম্মত বলে মনে করি না:সিইসি কেএম নূরুল হুদা || শপথ গ্রহণ নিয়ে দোটানায় নির্বাচিত বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা || একটি অভিনব প্রতিবাদ || খালেদা জিয়ার আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি ৩০ এপ্রিল || আড্ডা দিতে এসে ঢাবিতে যৌন হয়রানির শিকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী, অভিযোগকারীরাই থানায় || ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অশুভ আঁতাতের ফসল:সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ||  মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে জেড খনিতে ভূমিধসে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি || সরকারে প্রথম ১০০ দিন ছিল উদ্যমহীন, উৎসাহহীন, উচ্ছ্বাসহীন, উদ্যোগহীন: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। || শেখ সেলিমের নাতি জায়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও বেশ প্রিয় ছিল || দরকষাকষির দৃষ্টান্ত কার আছে সেটি আওয়ামী নেতারা নিজেরাই জানেন,না জানলে আপনাদের নেত্রীকে জিজ্ঞেস করুন: রুহুল কবির রিজভী ||

    ওবায়দুল কাদের সাহেব এখন স্বেচ্ছায় বিএনপি’র উপদেষ্টা হতে চলেছেন|:রুহুল কবির রিজভী

    February 8, 2019

    আবুল বাসার নানা:-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিনিয়ত বিএনপি-কে উপদেশ দিচ্ছেন। সভা-সমিতি, মঞ্চ, গণমাধ্যম ও ব্রিফিংয়ে বিএনপি’র কি করা উচিৎ, বিএনপি’র পরিণতি কি হবে, বিএনপি নির্বাচন ভীতিতে ভুগছে, বিএনপি সংসদে যোগ দেবে ইত্যাদি নানা কথার খৈ ফুটাচ্ছেন প্রতিদিন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব শালীনতা, ভব্যতার গুনমান বিবেচনা না করে বিএনপি’র বিরুদ্ধে ক্রমাগত উপদেশের ভাঙ্গা টেপ রেকর্ড বাজিয়েই চলেছেন। ‘মিডনাইট ইলেকশন’ এর সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব এখন স্বেচ্ছায় বিএনপি’র উপদেষ্টা হতে চলেছেন। সুতরাং খামোখা আওয়ামী লীগে থেকে তাঁর লাভ কী, বরং ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বিএনপি-তে যোগ দেয়ার আহবান জানাচ্ছি। বিএনপি’র দরজা খোলা আছে। এমনিতেই অনাচারের পাহাড়সম স্তুপে আওয়ামী নেতাকর্মীরা ভীত সন্ত্রস্ত, কখন কী হয় আতঙ্কে তাদের সারাদিন কাটে। বিভিন্ন এলাকায় তারা তলেতলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখা শুরু করেছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীরা আসলেই উদ্বিগ্ন। ক্ষমতার বৃক্ষ উপড়ে যাওয়ার পর অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গভীর দু:শ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সেজন্য স্বেচ্ছায় বিএনপি’র উপদেষ্টার আসনে বসতে চাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবসহ অন্য নেতারা।
    সুহৃদ সাংবাদিকবৃন্দ,
    বিএনপি সংসদে না গেলেও প্রতিনিয়ত বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে সংসদে বিষোদগার করছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেছেন-‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বিজয় ছিল প্রত্যাশিত। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে।’ এদেশে বাক-স্বাধীনতা শুধু একজনেরই আছে, তিনি হলেন ‘মিডনাইট ভোট’ এর প্রধানমন্ত্রীর। তিনি সবার বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একাই লাগামহীন কথাবার্তা বলেন। বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে নির্বাচনী ময়দান শুন্য করার পর বিজয় তো প্রত্যাশিত হবেই। রাতে ভোটারদের ঘুমানোর সময় প্রশাসন ও পুলিশ ব্যালট বাক্স পূর্ণ করলে সেই ভোট তো অবাধ ও সুষ্ঠু হয়ই, কারণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অবাধে ব্যালট পেপারে সুষ্ঠুভাবে সীল মারতে পারে। ভোটের দিনের ভোট ‘আউট সোর্সিং’ করে আগের দিন রাতে ব্যালট বাক্স ভরে দিয়ে তো ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হবেই। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করলে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু তো হবেই। তবে শেখ হাসিনা ও দলের নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কেউ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলেনি। এমনকি মহাজোটের শরীকরাও এখন বলছে যে, ভোট হয়েছে আগের দিন রাতেই। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ক্ষমতাক্ষুধা গ্রাস করেছে গণতন্ত্রকে।
    বন্ধুরা,
    সংবিধান বাক-স্বাধীনতাকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিয়েছে, আর আওয়ামী লীগ বিশ^াস করে নিজেদের কান্ডজ্ঞান রহিত বাক-স্বাধীনতা আর বিরোধীদের বোবা করে রাখা। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় নেই, আছে স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায়-এগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদ চোখে পড়ে না প্রধানমন্ত্রীর। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের ময়দানে রক্তক্ষয়, নজীরবিহীন গ্রেফতার অভিযান ও সংসদীয় এলাকায় রক্ত¯্রােত বয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীদের বেশ কিছু সংখ্যককে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বৈরতান্ত্রিক দমনের সকল শক্তি দিয়ে বিরোধী শক্তিকে অবরুদ্ধ করে এক অভিনব ‘মিডনাইট মহা ভোট ডাকাতির নির্বাচন’ এর পর সেই সরকারের মন্ত্রীরা তামাশার মঞ্চে কৌতুক প্রদর্শণ করা ছাড়া আর কিইবা এই মূহুর্তে করতে পারে। কারণ ভোট ডাকাতির সফলতা ছাড়া চারিদিক থেকে তারা ব্যর্থ। পথের কাঁটা সরানোর জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বিপুল জনপ্রিয় একজন জাতীয় নেত্রীকে এক বছর ধরে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে। দাগী খুনীদের মুক্তি দিয়ে নির্দোষ ব্যক্তি জাহালমকে তারা জেল খাটায়। বাহুবলে বিরোধী শক্তিকে তারা নির্মূল করার চেষ্টায় লিপ্ত। জাতীয় থেকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার, নারী-শিশু নির্যাতনের ভয়ঙ্কর প্রকোপ, সড়কে মৃত্যুর মিছিল, গুম ও খুনের ভয়াবহ আধিপত্য, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণসহ দেশব্যাপী গণতন্ত্র এখন হাহাকার করছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নীতির প্রতি যারা অবাধ্য তাদের ঠিকানা হচ্ছে কারাগার। এমতাবস্থায় ‘মিডনাইট ভোটের সরকার’ এর প্রধান শেখ হাসিনা তো বলবেনই যে নির্বাচনে তাদের বিজয় ছিল প্রত্যাশিত।
    সাংবাদিকবৃন্দ,
    আজ বিএনপি চেয়ারপার্সন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণমানুষের নেত্রী, গণতন্ত্রের প্রতীক ও ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসা পূরণের সাজা দেয়ার এক বছর পূর্ণ হলো। চরম অবিচার আর অন্যায়ের আঘাতে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করা হয়েছে। এটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সাজা। এক ব্যক্তির অত্যুগ্র ক্ষমতাক্ষুধা চরিতার্থ করতেই গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে কবরস্থ করার জন্য বেগম জিয়াকে কারাবন্দী করা হয়েছে। একজন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে এক বছর কারাগারে রাখার নজীর পৃথিবীর কোথাও নেই। এটি অপরিসীম জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেত্রীর বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী শক্তির নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলা। বেগম জিয়ার মুক্তি আইন ও বিচারের ওপর নির্ভরশীল নয়, এটি নির্ভরশীল শেখ হাসিনার মর্জির ওপর। সুতরাং আইন আদালতকে প্রভাবিত করেই বেগম জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। আমরা এই মূহুর্তে তাঁর নি:শর্ত মুক্তি চাই।
    ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সারাদেশে বিএনপি’র বন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আগামীকাল ৮ই ফেব্রুয়ারী ২০১৯ শুক্রবার বেলা ২-৩০টায় কেবলমাত্র ঢাকায় রমনাস্থ ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি’র উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী একই দাবিতে ঢাকা মহানগরী বাদে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে।
    ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

    Print Friendly, PDF & Email