Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    কোনো কেন্দ্রে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়ার বিষয়টি আমি বাস্তবসম্মত বলে মনে করি না:সিইসি কেএম নূরুল হুদা || শপথ গ্রহণ নিয়ে দোটানায় নির্বাচিত বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা || একটি অভিনব প্রতিবাদ || খালেদা জিয়ার আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি ৩০ এপ্রিল || আড্ডা দিতে এসে ঢাবিতে যৌন হয়রানির শিকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী, অভিযোগকারীরাই থানায় || ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অশুভ আঁতাতের ফসল:সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ||  মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে জেড খনিতে ভূমিধসে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি || সরকারে প্রথম ১০০ দিন ছিল উদ্যমহীন, উৎসাহহীন, উচ্ছ্বাসহীন, উদ্যোগহীন: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। || শেখ সেলিমের নাতি জায়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও বেশ প্রিয় ছিল || দরকষাকষির দৃষ্টান্ত কার আছে সেটি আওয়ামী নেতারা নিজেরাই জানেন,না জানলে আপনাদের নেত্রীকে জিজ্ঞেস করুন: রুহুল কবির রিজভী ||

    দীর্ঘ ৯ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে ছাত্রদল

    February 8, 2019

    ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান ও ডাকসু নির্বাচন ৩ মাস পিছিয়ে দেয়ার দাবি

    দীর্ঘ ৯ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে ছাত্রদল। ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান ও ডাকসু নির্বাচন ৩ মাস পিছিয়ে দেয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকীসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শ’খানেক নেতাকর্মী সকালে ভিসির কার্যালয়ে যান। পরে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ চার নেতা ভিসির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে ছাত্রদলের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা ও উপদেষ্টা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি, ডাকসুর সভাপতি হিসেবে ভিসির ক্ষমতায় ভারসাম্য এনে যেকোনো সিদ্ধান্ত সভাপতি ও ছাত্র সংসদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেয়া, সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা প্রদান, আগের হামলা ও নির্যাতনগুলোর বিচার, ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে ন্যূনতম তিন মাস সব সংগঠনের সহাবস্থান ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ নিশ্চিত, ভীতিহীন পরিবেশে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে হলের পরিবর্তে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের ভোটার করতে ৩০ বছর বয়সসীমার পরিবর্তে ভর্তি সেশন নির্ধারণ, ছাত্র সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের প্রচারণায় অংশগ্রহণে কোনো বাধা না দেয়া, হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবিগুলো উত্থাপন করেন। পরে ভিসি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান সাংবাদিকদের বলেন, ভিসি আমাদের দাবিগুলো আন্তরিকভাবে শুনেছেন। আমাদের দাবির যৌক্তিকতা ইতিমধ্যে মেনে নিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

    আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের যৌক্তিক দাবি প্রশাসন মেনে নেবেন। তবে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ মুহূর্তে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সময় দরকার। বর্তমান পরিবেশে নাটক মঞ্চস্থ হতে পারে, নির্বাচন নয়। তাই আমরা নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছি। তবে ভিসির বক্তব্যে আমরা আশাহত হয়েছি। ছাত্রদলের স্মারকলিপি পাওয়ার পর ভিসি মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমি তাদের বলেছি- ডাকসুর জন্য নির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র রয়েছে এবং একটি আচরণবিধি প্রণীত হয়েছে। ডাকসুর গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি অনুসরণ করে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গঠনতন্ত্রের বিধি-বিধান ও আচরণবিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজ্য হবে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভিসির কাছে স্মারকলিপি প্রদান ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বর, টিএসসি, চারুকলা হয়ে হেঁটে শাহবাগ হয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে যান। এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ- সভাপতি নাজমুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, কাজী মোকতার হোসেনসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ছাত্রদল সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করে। ওই বছরের ১৮ই জানুয়ারি ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের হামলার মুখে পড়ে। এতে ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরের বছর ওই হামলার এক বছর পূর্তিতে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে ছাত্রদল শাহবাগ থেকে মিছিল বের করে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলেও পুলিশি বাধার কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর আর ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে মিছিল করতে দেখা যায়নি। এদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, স্মারকলিপি দেয়ার পর তাদের মধুর ক্যান্টিনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। এ ব্যাপারে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী বলেন, মধুর ক্যান্টিনে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভিসির সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। যেহেতু আমরা অনেক দিন ধরে ক্যাম্পাসে নেই, তাই স্যার আমাদের এসব প্রক্রিয়া একটু ধীরে করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    Print Friendly, PDF & Email