Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ সকালে বমি করেছেন,কিছুই খেতে পারছেন না:মির্জা ফখরুল || রাজধানী ঢাকার কোনো রুটেই সু-প্রভাত বাস চলবে না: মেয়র আতিকুল ইসলাম || আবরার আহাম্মেদকে চাপা দেয়া বাসটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে বিআরটিএ || নিউজিল্যান্ডের মুসল্লিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথম সংসদীয় অধিবেশন শুরু করা হয়েছে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। || দক্ষিণ আফ্রিকায় জাকের হোসেন নামের এক বাংলাদেশিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা || কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন সাবেক ছাএ নেতা সামসুল আলম || বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে চেয়ারম্যান পদে ফিরোজ হায়দার || সিমেন্টের বদলে বালি আর রডের বদলে বাঁশ দিবেন না: গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ || তাঁতী দলের উদ্যোগে আব্দুল আলী মৃধার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হবে || অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ||

    নরসিংদীতে অধ্যক্ষের ওপর ‘ময়লা’ হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    March 9, 2019

    অবশেষে সারা দেশে শিক্ষক সমাজের আন্দোলনের মুখে নরসিংদীতে অধ্যক্ষের ওপর ‘ময়লা’ হামলার মুখোশ উন্মোচিত

    pnbd24:-অবশেষে সারা দেশে শিক্ষক সমাজের আন্দোলনের মুখে নরসিংদীতে অধ্যক্ষের ওপর ‘ময়লা’ হামলার মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।

    হামলায় ব্যবহৃত বালতি ও ক্যাপ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বির হোসেন অতুল হামলাকারীদের সরবরাহ করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

    আর ক্যাপ পরে ময়লা হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন আরেক ছাত্রলীগ নেতা আদর আল মাহমুদ। বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদী সরকারি কলেজের সামনে থেকে আদরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে।

    গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে মুখোশ ও ক্যাপ পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত অশালীন ভাষায় বকাঝকা করে এক বালতি ময়লা পানি অধ্যক্ষের ওপর ছুড়ে মারে। সে সময় চেয়ার ও গ্লাসও ছোড়া হয় তার ওপর। এতে তিনি কপালে আঘাত পান।

    গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে আন্দোলন করে আসছিল ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন সাধারণ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

    এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

    জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

    তবে প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা ঘটলেও অজানা ‘আতংকে’ মুখে কুলুপ আঁটেন কলেজের শিক্ষক।

    এরই মধ্যে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পুলিশ কলেজের ও শহরের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে তথ্য বিশ্লেষণ করে। এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন নরসিংদী বাজারের সকাল ১০টার একটি ফুটেজ পুলিশের নজরে আসে।

    ওই ফুটেজে দেখা যায়, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বির হোসেন অতুল হলুদ রঙের শার্ট পরে একটি মোটরসাইকেলে বাজার থেকে বের হচ্ছেন। তার পেছনে বসা আরেক ছাত্রলীগ নেতা রেজোয়ান আহমেদ সাকিবের হাতে একটি লাল বালতি।

    অধ্যক্ষের ওপর ময়লা হামলায় ব্যবহৃত বালতিও লাল। ঘটনার পর আঞ্চলিক সমবায় অধিদফতরে নরসিংদী চেম্বার অব কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে রাব্বির হোসেন অতুলকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একই হলুদ শার্টে ছবি তুলতে দেখা গেছে।

    ওই সময় তার পাশে ছিলেন হামলায় নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রলীগ নেতা আদর আল মাহমুদ।

    পুলিশ বাজারে অনুসন্ধান করে বালতি কেনার দোকান চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে হামলায় ব্যবহৃত সবুজ ক্যাপ কেনা গেঞ্জি পট্টির ইয়াসিন আরাফাতের দোকানও শনাক্ত করেছে।

    এই বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাজারের গেঞ্জি পট্টিতে গিয়ে ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী ইয়াসিন আরাফাতের সঙ্গে কথা বললে তিনি যুগান্তরকে জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে আমার দোকান থেকে দুই ছেলে এসে ১০টি সবুজ ক্যাপ কিনে নিয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষ স্যারের ওপর ময়লা হামলার পর পুলিশ আমার কাছে ক্যাপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমরা দোকানদার মানুষ, কে কোন কারণে ক্যাপ কিনে নিয়েছে- তা কি আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব।

    ঘটনার সময় কলেজের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা একটি অটো দিয়ে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আসে। সেখান থেকে ছাত্রলীগ নেতা আদর আল মাহমুদের নেতৃত্বে ৫ তরুণ মাথায় সবুজ ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে।

    এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সকালে কলেজের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে হামলাকারীরা সভা করে। ওই বাড়ি থেকেই বালতিতে ময়লা ভরা হয়েছে। পড়ে হামলায় অংশ নেয়া ৫ তরুণ একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দিয়ে কলেজের প্রধান ফটকে আসে।

    অপরদিকে সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল আরও ৪ থেকে ৫ জন তরুণ। ঘটনায় সময় তারা বাইরে থেকে পরিস্থিতি নজরদারি রাখে। একই সময় হামলাকারীরা কলেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে সিসিটিভির ফুটেজে বিঘ্ন ঘটায়।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (তদন্ত) বিপ্লব দত্ত চৌধুরী বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চাঞ্চল্যকর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রোবাবার বিকালে শহরের বানিয়াছল এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে মিনহাজ আহমেদ ফাহিম (১৬) ও একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোবারক হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় ব্যবহৃত ক্যাপ ও মাস্ক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা পরদিন সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিষা রায়ের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

    ওই সময় গ্রেফতারকৃতরা আদালতকে জানিয়েছে, তারা নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্র নয়। একই এলাকার আদর আল মাহমুদের কথামতো তার নেতৃত্বে অধ্যক্ষের ওপর ময়লা হামলা চালিয়েছে তারা। তবে বাকি দুজনের নাম তারা জানেন না বলে জানায়।

    এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদী সরকারি কলেজের সামনে থেকে ছাত্রলীগ নেতা আদরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

    সিসিটিভির চিত্র দেখে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল ইসলাম রিমন বলেন, বালতি কিনে যাওয়া মোটরসাইকেলের চালক রাব্বির হোসেন অতুল। বাজারের এই সিসিটিভির ফুটেজই প্রমাণ করে কলেজের অধ্যক্ষের হামলার ঘটনায় সে জড়িত। কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। সে অবৈধভাবে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে কলেজে নৈরাজ্য করেছে। অধ্যক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে এখন সে অপরাধ ঢাকতে লোক দেখানো আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। আমরা কলেজে অধ্যক্ষের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বির হোসেন অতুল বলেন, ঘটনার দিন সকালে আমি বাজারে যাইনি। আমি চেম্বারের একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম। শুধুমাত্র শার্টের রং মিল হওয়ায় আমিই সেই ব্যক্তি এটা ভুল। এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    নরসিংদীর পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো কেউ তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেনি। ইতিমধ্যে দুজনকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি করিয়েছি। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী, আরেক হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

    ঘটনার ১৩ দিন পরও মূল পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীরা গ্রেফতার না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, আমরা সব তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। আশা করি, দ্রুত ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে পারব।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার না হলে গোটা শিক্ষক সমাজসহ জাতি লজ্জিত হবে। সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত এই কর্মকাণ্ড আমরা মুখ বুঝে ছেড়ে দিলে সমাজ আমাদেরকে ক্ষমা করবে না। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা সবাই জানে। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

    Print Friendly, PDF & Email
    • 17
      Shares