Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    এমপি পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট || ফকিরাপুলে ডাস্টবিন থেকে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা ৫৫ রাউন্ড গুলি ও একটি গ্রেনেড উদ্ধার || দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম না কেনার সিদ্ধান্ত ছাত্রদলের || সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ সংসদ সদস্যের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন || ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত : বিজিবি মহাপরিচালক ||  আগামী উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না: রুহুল কবির রিজভী || ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কক‘স্বামী-স্ত্রীর মতো’ :ররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন || বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর অভিনন্দন বার্তা || বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বিবৃতি || হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা জিকে গউছসহ ১৪ জন জেলে ||

    নি র্বা চ নী হা ল চা ল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩: ভোটের লড়াইয়ে প্রস্তুত মোক্তাদির-শ্যামল

    November 18, 2018

    pnbd24:-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনে প্রস্তুত আওয়ামী লীগের র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী আর বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ২০১১ সালে হওয়া উপনির্বাচনের এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই এবার ভোটের লড়াইয়ে মাঠ কাঁপাবেন- এমনটা নিশ্চিত দু’দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সেটি ব্যক্ত হচ্ছে। এ দুজনকে ঘিরে একাট্টা দলের সবাই। শুধু অপেক্ষা মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। এরপরই ঝাপিয়ে পড়বেন ভোটের মাঠে। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে মোক্তাদির আর শ্যামল দলের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের মনোনিবেশ তাদেরকে ঘিরেই।

    সে কারণে ভিন্ন আলোচনাও আছে। তবে নানা বিবেচনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরীই শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে। গত ৮ বছরে ব্যাপক উন্নয়নের দাবি তার। অন্যদিকে ফুরফুরে মেজাজে আছে বিএনপি।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার ২১ ইউনিয়ন আর এক পৌরসভা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ নির্বাচনী এলাকা। ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৬৩ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫১ হাজার ৮৩১ আর পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৩২ জন। ১৭৭ ভোটকেন্দ্রের ৯৬১টি ভোট কক্ষে ভোট দেবেন এই ভোটাররা।

    ২০০৮ সালের আগে এখানে পাঁচবারের এমপি ছিলেন বিএনপি নেতা হারুন আল রশীদ। এক সময় বিএনপির এই ঘাঁটি এখন আওয়ামী লীগের হাতে। তা ফিরে পেতে আর ধরে রাখতে মরিয়া দুই দল। ২০০৮ সালে অ্যাডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চুর বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার মধ্যদিয়ে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে আসে। দু’বছরের মাথায় ২০১০ সালে লুৎফুল হাই সাচ্চুর মৃত্যুতে শূন্য এই আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথম মুখোমুখি হন র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী আর ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। জয়ী হন মোকতাদির চৌধুরী। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় সহজেই জয় পান আওয়ামী লীগের মোকতাদির চৌধুরী। তবে ওই নির্বাচনেই প্রথম মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি আসনটি দাবি করে এবং মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়। পরে মনোনয়ন প্রত্যাহারও করে নেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। এবার রেজাউল ছাড়াও দলের আরেক নেতা কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ জামাল রানা মনোনয়ন চাইছেন এখানে। তাদের বিরোধে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল জাতীয় পার্টি এখানে আরো দুর্বল হয়েছে। রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়ার কোনো তৎপরতা নেই। পোস্টার-ফেস্টুন, প্রচারণা ছাড়াও গণসংযোগ-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কোথাও দেখা যায়নি তাকে। দলের নেতাকর্মীরাই জানিয়েছেন, এরশাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই পুঁজি। মনোনয়ন পাওয়ার হাতিয়ার এই সম্পর্ক।

    বাস্তবে মাঠে তার অবস্থা গড়ের মাঠ। রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সদর আসনে চূড়ান্তভাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী করা হয়েছে তাকে। এই সিট গতবার জাতীয় পার্টিকে দিয়েছিলো এবারও জাপার চেয়ারম্যান সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করবেন। অপর মনোনয়ন প্রার্থী জামাল রানা দলের মনোনয়নে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কিসের বিনিময়ে তখন মনোনয়ন ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো সেই এভিডেন্স আছে আমার কাছে। আজকে এখানে জাতীয় পার্টির এমপি থাকতো। সদর ও বিজয়নগরে দলের ওই মনোনয়ন প্রার্থী একটা অফিসও করতে পারেননি জানিয়ে তিনি আরো বলেন- চায়ের দোকানে বসে নির্বাচন করে সে এমপি হয়ে যাবে। ২০০১ সালে নির্বাচন করে ৫ হাজার ভোট পেয়েছে সে। নিজ গ্রামে হয়েছে তৃতীয়। এখন যে এমপি হবে তার দেড়লাখ ভোট লাগবে। ১ লাখ ৪৫ হাজার ভোট আরো বাকি। সে জাতীয় পার্টির ক্ষতি করেছে। ৫ হাজার ভোট থেকে আরো নিম্নে নিয়ে গেছে।

    অন্যদিকে মুফতি ফজলুুল হক আমিনীর ছেলে ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান এবং হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী এখনো স্থির হতে পারেন নি তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন। কখনো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আবার কখনো সরাইল-আশুগঞ্জ টার্গেট করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে তার সমর্থকরা। কোন আসন থেকে তিনি নির্বাচন করবেন সে বিষয়ে এখানকার আলেম-উলামারা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি। হাসানাত বলেন, তারা যে আসন থেকে আমাকে নির্বাচন করতে বলবেন সেখান থেকেই নির্বাচন করবো আমি। আমার বাবাকে সারা দেশের উলামায়ে কেরামগণ পছন্দ করতেন। সেই সুবাধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলেম-উলামারা আমাকে চান।

    মোকতাদির চৌধুরী ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীরা হচ্ছেন- জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এমএসসি, সাবেক সচিব মিজানুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি তাদের। তবে মোকতাদিরের বিকল্প দেখছেন না দলের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন- বাস্তবিকতা হচ্ছে অন্য কোনো মনোনয়ন প্রার্থী মাঠে তৎপর নন। হেলাল উদ্দিন কিছু পোস্টার, প্রচারণা আর কয়েকটি তোরণ নির্মাণ করলেও অন্যদের সেটিও নেই।

    রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্যারিয়ার, মুক্তিযুদ্ধে অবদান-এসব নানা দিক বিবেচনায় হেভিওয়েট ক্যান্ডিডেট বলেই বিবেচিত হন মোকতাদির চৌধুরী। তার পক্ষেই একাট্টা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জেলা এবং নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলা সদর ও বিজয়নগর এবং পৌরসভা আওয়ামী লীগ মোকতাদির চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠিয়েছে অনেক আগেই। পাশাপাশি নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি ও তার কর্মী-সমর্থকরা। এরই অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মিসভা, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করা হয়েছে। পৌরসভা ও ইউনিয়নের প্রত্যেক ওয়ার্ডে কর্মিসভা করে আলাদা কেন্দ্র কমিটি করছে মহিলা আওয়ামী লীগ। সংসদ সদস্য হিসেবে তার সময়কালে হাজার বারশ’ কোটি টাকার উন্নয়নের ফিরিস্তিও ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা।

    নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সচিত্র ফেস্টুন। জেলা সদরের সঙ্গে বিজয়নগর উপজেলার দূরত্ব কমিয়ে আনতে বানানো হয়েছে সীমানা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক। এ ছাড়া শহরে যানজট কমাতে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয় বড় করে।
    মোকতাদির চৌধুরী বলেন, আমি এমন একজন প্রার্থী যাকে এ আসনের তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এককভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে অন্যান্য প্রার্থী থাকতেও পারেন। কিন্তু সংগঠনের সমর্থন ব্যতিরেকেই তারাই মনোনয়ন প্রার্থী হয়েছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড আমার বাইরে আর কাউকে সাপোর্ট করেনি। দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারেও শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মোকতাদির চৌধুরী ভোটের লড়াইয়ে তার অবস্থান শক্তিশালী দাবি করে বলেন- যখন প্রথম নির্বাচন করি তখনও বিএনপি থেকে অনেক ভালো ভোট পেয়েছিলাম। অনেক টাকা পয়সা খরচ করেও কুলাতে পারি নি। এখনো ইনশাআল্লাহ আমার অবস্থা আরো সুসংহত হয়েছে, ভালো অবস্থানে গিয়েছি। তারা তো অনেক দিন ক্ষমতায় ছিল, তারা কিছুই করে নি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্য। বড় ধরনের কোনো কাজ করেনি। আমরাই সব বড় বড় কাজ করেছি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের জন্য। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছি।
    মনোনয়ন নিয়ে চিন্তা নেই বিএনপিতে। বিভিন্ন সময় কয়েকজন আগ্রহের কথা জানালেও পরে অবস্থান বদলে খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের পক্ষেই একাট্টা হন দলের ওই নেতারা। শ্যামল ছাড়া দলের অন্য কেউ আর মনোনয়ন ফরম কিনেন নি। উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর থেকে এখানে বিএনপি’র রাজনীতির কাণ্ডারি হয়ে উঠেন শ্যামল। সম্প্রতি কারান্তরীণ হয়ে জামিনে বেরিয়ে আসেন বিএনপির এই নেতা। জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, বিগত দিনে মামলা- মোকদ্দমায় দলের নেতাকর্মীদের শ্যামল যে সাপোর্ট দিয়েছেন যদি তিনি না থাকতেন তাহলে আজকে এখানে বিএনপি’র অস্তিত্বই থাকতো না।

    Print Friendly, PDF & Email
    • 1
      Share