Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    গণতন্ত্রে অবিশ্বাসীরাই ভোটের উৎসবকে কলুষিত করতে চায় || ২০৬ মামলার আসামি মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবীব-উন নবী খান সোহেলের মুক্তি কতদূর? || খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল || প্রতিবছর নববর্ষ হিরন্ময় অতীতের আলোকে সম্মুখ পানে, অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে তাগিদ দেয়: তারেক রহমান || বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর নিন্দা ও প্রতিবাদ || সোহেলকে কারাগারে ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে : রুহুল কবির রিজভী || পাসপোর্ট পেতে প্রবাসীদের চরম দুর্ভোগ || বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত || রাষ্ট্রযন্ত্রকে করায়ত্ত করে আওয়ামী লীগ বন্দুকের নলের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে :মির্জা ফখরুল ইসলাম || বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত ||

    পতœীতলায় সওজের যায়গা গুলো বেদখল

    April 12, 2019

    ঝুকিপূর্ন অবস্থায় নজিপুর বাসষ্ট্যান্ড গোলচত্বরসহ আঞ্চলিক মহাসড়ক এদিকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে বলে গণ-বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সওজ

     

    ব্রেলভীর চৌধুরী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর পরেই জেলায় অবস্থানকারী অতি গুরুত্বপূর্ন পতœীতলা উপজেলা সদরের নজিপুরে সড়ক ও জনপথের (সওজ) যায়গা গুলি বেআইনি ভাবে দখল হওয়ায় সংকির্ন হয়ে এসেছে গোল চত্বর এলাকা সহ আঞ্চলিক মহাসড়ক। দেশ স্বাধীনের পর থেকে নজিপুর নওগাঁ সড়কের পুঁইয়া থেকে বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম দিকের সড়ক ও জনপথ বিভাগের হুকুম দখল করা বেদখল যায়গা গুলি এখন পর্যন্ত পূনঃউদ্ধারের কোন চেষ্টা নেই। অপরদিকে একই সড়কের পূর্ব পার্শ্বের সড়ক ও জনপথ বিভাগের দখলে থাকা সীমানা পিলার দেয়া যায়গা গুলি ব্যক্তি মালিকানায় দখল হলেও পশ্চিম দিকের সড়ক ও জনপথ বিভাগের হুকুম দখল করা বেদখল যায়গা গুলি অবৈধ ভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মান করেছে অবৈধ দখলদাররা। যা অদ্যবধি উদ্ধারের কোন চেষ্টা নেই সওজের। এসব অবৈধ দখলদাররা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আদালত থেকে একতরফা স্থগিতাদেশের রায় নিয়ে যায়াগা গুলিতে বানিজ্যিক ভবন তৈরী করে বছরের পর বছর নিজ দখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এতে করে পুঁইয়া থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার প্রসস।ততা সংকীর্ন হয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় এসব অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাটের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। ফলে পথচারীরা চলাচল করেন এখন সড়ক দিয়ে। এতে করে যানবাহন সহ পথচারীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্য দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করলেও এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ বা পূনঃউদ্ধারের চেষ্টা নেই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের।

    এদিকে কয়েকদিন আগে নওগাঁ-বদলগাছী-পতœীতলা-সাপাহার-পোরশা-রহনপুর সড়কের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড হতে বরুনকান্দি মোড়, কির্তিপুর বাজার, বদলগাছী বাজার, মাতাজীহাট, খিরশীন বাজার ও নজিপুর গোলচত্বর সংলগ্ন সড়কের উভয় পার্শ্বে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন জমিতে অবৈধভাবে অবস্থিত সকল অবৈধ স্থাপনা আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল/২০১৯ তারিখে প্রশাসনের সহযোগীতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে বলে জাতীয় দৈনিকে গণ-বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সওজ। আর পথচারীদের চলাচল উপযেগী ফুটপাত ও যানযট নিরসনে সড়ক প্রসস্থ করনে অতিসত্বর নজিপুর চারমাথা গোলচত্বর সহ আশেপাশের এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে উর্দ্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে এলাকাবাসী।

    উপজেলা সদর নজিপুর শহরের ব্যস্ততম চারমাথা মোড়ে এসে মিলেছে নওগাঁ, সাপাহার, ধামইরহাট ও বদলগাছী সড়ক। উপজেলার বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এই এলাকায় অবস্থিত। ফলে শহরের এই এলাকাটি প্রায় সব সময় ব্যস্ত থাকে। নজিপুর বাসষ্ট্যান্ডের চাহিদা অনুযায়ী প্রসস্ত রাস্তা সম্প্রতি পাকাকরন করা হলেও পাকা রাস্থার যায়গা গুলো আবারো অবৈধ ভাবে বেদখল ও রাস্তার উপর দোকানপাট গড়ে ওঠাতে দিনদিনই নজিপুর বাসষ্ট্যান্ড ভারী যানবাহন সহ পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অতিগুরত্বপূর্ণ নজিপুর বাসষ্ট্যান্ডের সাথে লাগানো সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় কার্যালয় থাকলেও নজিপুর বাসস্ট্যান্ডের গুরত্বপূর্ণ রাস্তার পাশের সরকারী যায়গা গুলো অবাধে বেদখল হয়ে গেছে। এসব সরকারী যায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মান পর্যন্ত করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় বসে। অতীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান চালালেও কিছুদিনের জন্য কিছু যায়গা মুক্ত থাকার পর আবারও ঐসব যায়াগুলো বেদখল হয়ে যায়।

    সরজমিনে দেখাগেছে, নজিপুর-ধামইরহাট সড়কের নজিপুর বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বর এলাকা থেকে ১৪ বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত, নওগাঁ সড়কের কাঁটাবাড়ি মোড় পর্যন্ত, সাপাহার সড়কের পতœীতলা বাজার পর্যন্ত ও বদলগাছী সড়কের ভাবিচা মোড় পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর যায়গা গুলো সহ নজিপুর পৌরসভা এলাকার রাস্তার পাশ গুলো ভরাট করে স্থাপনা নির্মান করায় অত্র এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা একে বারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এসব যায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মান ও দোকানপাট সহ বিভিন্ন সামগ্রী রাস্তার উপর রাখছে অবৈধ দখলকারীরা। বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বর থেকে চতুর্দিকে এসব রাস্তায় ওয়েল্ডিং কারখানা, বঙ্গা কারখানা, স-মিলের কাঠ, বাসা-বাড়ি তৈরীর ইট, বালু, মেসিনারীজ দোকানপাটের মালামাল নামানো সহ রাস্তার উপর বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে ওঠায় যানবাহন সহ পথচারী চলাচল হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। বাদ যায়নি হকাররাও। হকাররা ফুটপাতে বিছিয়ে বসেছেন কাপড়সহ হরেক রকমের পণ্যের দোকান। গোল চত্বরের আশেপাশের চারটি সড়কের ফুটপাতের বেশির ভাগ অংশ হকার-ব্যবসায়ীদের দখলে। আছে পান, সুপারী, দই-মিষ্টি, চা-খাবারের দোকান, ফলের দোকান, মাছের দোকান। অন্যদিকে বাস সহ ব্যাটারী চালিত চার্জার (ইজি বাইক), বিক্সা, ভ্যান সংকির্ন রাস্তার উপর দাড়িয়ে থেকে আরেক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। এসব অবৈধ দখলদারদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হকারদের দোকান-পাট ও বাস সহ ব্যাটারী চালিত চার্জার (ইজি বাইক), বিক্সা, ভ্যানের কারণে ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের হেঁটে যাওয়ার সুযোগ নেই। বেশির ভাগ পথচারী সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারী না থাকায় এসব অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাটের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এমনকি নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কার্যালয়ের বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে অবৈধ স্থাপনা নির্মানের কাজ অবাধে চলছে। এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় আলোচনা হলেও আদৌও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    নজিপুর বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বর দিয়ে পাশ্ববর্তি সাপাহার-পোরশা-ধামইরহাট উপজেলার কয়েক হাজার যানবাহন যানবাহন রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি দিন দিবারাত্রী চলাচল করে থাকে। এবাদেও উওরাঞ্চলের পঞ্চগড় দিনাজপুর থেকে রাজশাহী-নবাবগঞ্জের সাথে অতি সংক্ষেপে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা পতœীতলার নজিপুরের উপর দিয়েই। এছাড়াও দেশের উদ্বৃত্ত ধান উৎপাদন এলাকা হিসাবে পরিচিত নওগাঁ জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন উপজেলা পতœীতলা সহ পোরশা-সাপাহারের উৎপাদনকৃত ধানগুলো বহনকারী হাজার হাজার ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহন পতœীতলার নজিপুরের উপর দিয়েই চলাচল করে থাকে। নজিপুর চারমাথা গোলচত্বরের চারিদিকে সওজের বিশাল যায়গা থাকলেও সেগুলি অবৈধ ভাবে দখল হওয়ায় সংকীর্ণ হয়ে আসা রাস্তার উপরই বাস দীর্ঘক্ষন দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়।

    পথচারীরা বলেন, চারমাথা এলাকার সড়ক গুলো সব সময় দখলে থাকে। দখল হতে হতে এমন অবস্থা হয়েছে যে পথচারীদের এখন রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে হয়। তবে এখনই সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবৈধ ভাবে দখল হয়ে যাওয়া যায়গাগুলো পূণঃউদ্ধার সহ নতুন ভাবে রাস্তার পাশে অবৈধ ভাবে দোকানপাট গড়ে উঠা বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়া জররী হয়ে পড়েছে। অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ না করতে পারলে এই গুরত্বপূর্ণ বাসষ্ট্যান্ড এলাকার ঝুঁকি এড়িয়ে সুন্দর্য বর্ধন করা মোটেও সম্ভব হবে না।

    অপরদিকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সাধারন মানুষের বিনোদনের জন্য ব্যস্ততম নজিপুর বাসষ্ট্যান্ডের গোল চত্বর স্ট্যান্ডে একটি টেলিভিশন স্থাপন করায় প্রতিনিয়ত সেখানে সাধারন মানুষের ভিড় জমে এতে করে যানবাহন গুলোর যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি সহ বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বেদখলকৃত জায়গা পূনঃ উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী জানান।

    এবিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সএন) হামিদুল হক জানান সারাদেশের ন্যায় নওগাঁতেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান ও সরকারী যায়গা পূনঃ উদ্ধারের জন্য সরকারী ভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এবিষয়ে পত্রিকায় নোটিশ জারি করা হয়েছে। আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল/২০১৯ নওগাঁ জেলার অন্যান্য যায়গা গুলোর মতো পতœীতলাতেও প্রশাসনের সহযোগীতায় পরিচালনা করা হবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সরকারী যায়গা পূনঃ উদ্ধার অভিযান। বিগত সময়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর উদ্ধারকৃত যায়গা গুলি যারা আবারো দখল করেছে সেগুলি পুনরায় উদ্ধারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সচেষ্ঠ রয়েছে। এবারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

    Print Friendly, PDF & Email