Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ সকালে বমি করেছেন,কিছুই খেতে পারছেন না:মির্জা ফখরুল || রাজধানী ঢাকার কোনো রুটেই সু-প্রভাত বাস চলবে না: মেয়র আতিকুল ইসলাম || আবরার আহাম্মেদকে চাপা দেয়া বাসটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে বিআরটিএ || নিউজিল্যান্ডের মুসল্লিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথম সংসদীয় অধিবেশন শুরু করা হয়েছে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। || দক্ষিণ আফ্রিকায় জাকের হোসেন নামের এক বাংলাদেশিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা || কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন সাবেক ছাএ নেতা সামসুল আলম || বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে চেয়ারম্যান পদে ফিরোজ হায়দার || সিমেন্টের বদলে বালি আর রডের বদলে বাঁশ দিবেন না: গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ || তাঁতী দলের উদ্যোগে আব্দুল আলী মৃধার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হবে || অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ||

    বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও নেতাজী সুভাষ বসু- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সম্পর্ক ।  

    March 7, 2019

    প্রদীপ মালাকার- নিউইয়র্ক, ইউএসএ:- ১৯৪৭ সালে  ব্রিটিশদের দ্বারা দ্বি জাতী  তত্বের ভিত্তিতে  ভারতবর্ষ কে দ্বিখণ্ডিত করে  ভারত ও পাকিস্থান নামক যে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয় , তা এ অঞ্চলের পরবর্তী প্রজন্মকে অনেক  এউতিহাসিক সত্যকেই  ভুলিয়ে দিয়েছে । জন্মলগ্ন থেকে  উগ্র সানপ্রদায়িক ও শোষণনীতির পাকিস্তানী  শাসক গোষ্ঠী ১৯৭১ সাল ২৫ শে মার্চে বাঙালি জাতির ওপর পৃথিবীর যে নজিরবিহীন নিষ্পেষণ ও গণহত্যা শুরু করেছিল , তা রুখে দিয়ে রক্তাক্ত  সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৭১ এ্র ১৬ই  ডিসেম্বর এ জন্ম লাভ করে স্বাধীন বাংলাদেশ ।   একটি অঞ্চলের এই যে শাসনতান্ত্রিক  ভাঙ্গাগড়ার খেলা , তাতে যেমন চাপা পড়ে আছে বাঙালি জাতির বহু আত্নত্যাগের ইতিহাস, তেমনি প্রজন্মের উত্তরাধিকারদের মাজেও এ নিয়ে জন্মেনি তেমন কোনও অনুরাগ ।

    ভারতীয় উপমহাদেশের দুই কলঙ্কজনক অধ্যায় ব্রিটিশ  ও পাকিস্তানী শাসনামল ।  বাংলার দুই মহানায়ক নেতাজী সুভাষ বসু ও বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবের নেতৃত্বে  ব্রিটিশ ও পাক বাহিনীর বিরুব্দে দেশমাতৃকার কে মুক্ত করতে দুটি মুক্তিসংগ্রাম পরিচালিত হয়েছিল । ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী পাক বাহিনীকে পরাভূত করে দেশ স্বাধীন করেন । অপরটি ১৯৪৩ সালে নেতাজীর নেতৃত্বে পরিচালিত আজাদ হিন্দ ফৌজএর অবিভক্ত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের তাড়াতে না পারলেও ব্রিটিশ রাজ শক্তিকে প্রবলভাবে নাড়া দেয় যা এ  অঞ্চলের রাজনিতিকে দীর্ঘ সময় প্রভাবিত করে ।গত ২৬ শে মে,২০১৮  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলিকাতা  সফরে গিয়ে নেতাজী ভবন পরিদর্শন কালে তিনি যথার্থই বলেছেন ,অখণ্ড ভারতের নেতাজী নেতৃত্ব না দিলে ভারত- পাকিস্তান স্বাধীন হতো না। আর পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশও হতো না। তিনি অকপটে এও বলেন, আমার বাবার অন্যতম নায়ক ও আদর্শ নেতাজী সুভাষ বসু ।

    প্রায় দুশো বছরের ব্রিটিশ  ঔপনিবেশিক শাসন –শোষণের  শ্রিউখল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশকে মুক্ত করতে  বহু বেউপ্লবিক সশস্ত্র প্রচেষ্টা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে হলেও একথা              অনস্বীকার্য যে ব্রিটিশদের ভিত প্রবলভাবে নাড়াতে সক্ষম হন নেতাজীই , যা দারুণভাবে প্রভাবিত করে তরুণ  শেখ মুজিবকেও । সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি উড়িষ্যার কটক শহরে হলেও তিনি বেড়ে উঠেন কলিকাতা শহরে, যে শহরে লেখাপড়া করতে গিয়ে রাজনীতি ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ।  প্রখর মেধাবী সুভাষ ইন্দিয়ান  সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ হয়ে ও তাতে যোগ না দিয়ে পরাধীন দেশমাতাকে  উব্দারের  সংকল্প করেন । জাতীয়তাবাদী নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের হাত ধরে সেই সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে রাজনীতিতে এসে পূর্ণ স্বরাজের দাবি তুললেন , যেখানে তৎকালীন জাতীয় নেতারা ক্ষমতার অংশীদার হতে  সরবোচ্চ  স্বা্য়ত্বশাসন পর্যন্ত দাবি তুলতে পেরেছিলেন । স্বাধীনতার প্রশ্নে কোটি কোটি ভারতবাসীর অন্তরের কথা যেন সুভাষের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছিল । দেশবাসী জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে তাকে সমর্থন দিয়ে জয়যুক্ত  করলেন , তারপর থেকে  ব্রিটিশদের কাছে ক্রমেই বিপদজনক হয়ে উঠতে থাকলেন সুভাষ । আপোষকামী রাজনীতিবিদদের কুটচালে দ্বিতীয়বার কংগ্রেস সভাপতি পদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে জয়ী হলেও পদত্যাগ করতে হলো তাকে । একযোগে সুভাষ বসুকে লড়তে হয় ব্রিটিশ ও নিজদেশের ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে সমানতালে ।

    অন্যদিকে স্বাধীন বাংলাদেশে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় বাংলাদেশের জাতির জনককে । কংগ্রেস সভাপতির পদ ত্যাগ করার পর ফের কারারুব্ধ সুভাষ অনশন শুরু করলেন, অবস্থা বেগতিক দেখে কলকাতার নিজ বাড়ীতে অন্ত্ররিন করা হল তাকে ।ব্রিটিশেরপুলিশ-গোয়েন্দাদের হাজারো চোখে ধুলো দিয়ে সুভাষ বসু বেরিয়ে পড়লেন ঘর থেকে । এরপরের ঘটনায় তিনি কেবল ভারতবর্ষের নন , বিশ্বের এক কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামী মহান নেতায় পরিণত হলেন ,হলেন সবার প্রিয় নেতাজী ।

    তৎকালীন বিশ্বের মহাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রধানরা নেতাজীর অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্বের কাছে ম্লান হয়ে যেতে থাকলেন । তাকে বরণ করে নিতে থাকেন শ্রব্ধার আসনে । নেতাজী বিশ্বের ক্ষমতাধরদের কাছ থেকে ভারতমাতাকে উব্ধারের সমর্থন –সহযোগিতা আদায় করতে বেশী সময় নেননি । শক্তিশালী ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথশক্তির বিরুব্ধে নেতাজীর এই যুব্ধে আরেক ক্ষমতাধর জাপানসহ বেশকিছু দেশ পাশে থাকলেও তার মূলশক্তি ছিল দেশপ্রেমের , সততার ও আদর্শের ।   অন্যদিকে সামরিক ভাবে শক্তিশালী পাকিস্তানি জান্তাদের সঙ্গে নিরস্ত্র বাঙালির সংগ্রামে শেখ মুজিবের ও অস্ত্র ছিল দেশপ্রেমের মন্ত্র । নেতাজী তার গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিটি সেনার অন্তরে সেই আদর্শের বীজ  যথাযথভাবে রোপণ করতে পেরেছিলেন । সেই যুব্ধে আজাদ হিন্দ ফৌজের ৩৬ হাজারেরও অধিক সেনার শাহদাৎবরণ সহ বহু বীরত্বগাঁথা ইতিহাসে ঠাই পায়নি ।

    জাপানের সহায়তায় নেতাজীর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ ব্রিটিশের বিরুব্ধে পরিচালিত যুব্ধে অভূতপূর্ব সাফল্য পায় । রক্তক্ষয়ী সেই যুব্ধে ব্রিটিশদের পরাভূত করে মনিপুর, আন্দামান ও নি কোবর সহ বিস্তীর্ণ ভারতভূমি অধিকার করে আজাদ হিন্দ ফৌজ । দ্বিতীয় বিশ্ব যুব্ধে সেই সময়ে আমেরিকা  জাপানের হিরোশিমা ও নাগাশাকি শহর দুইটিতে এটম বোমা নিক্ষেপের ফলে মিত্র বাহিনীর  কাছে  জাপানের আত্মসমর্পণ  নেতাজীর লড়াইয়ে ছন্দপতন ঘটায় । কিন্তু দেশজুড়ে  গণমানুষের  মাজে যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তিনি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন  তা ব্রিটিশদের বিতাড়নের পথকে প্রশস্থ করে । স্বাধীনতার প্রশ্নে   গণজোয়ারের পাশাপাশি আজাদ হিন্দ ফৌজের বিজয়ের   ঢেউ নৌবাহিনীতে বিদ্রোহ শুরু হয় ।  ফলশ্রুতিতে দেশভাগের মত সুদূরপ্রসারী সর্বনাশ করে  ভারত ছড়ে যায় ব্রটিশরা । তবে রেখে যায় তাদের অনুগত দোসরদের , যারা নেতাজীকে মৃত প্রতিপন্ন করার চক্রান্তে  মেতে উঠে । নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রকাশ্যে শারীরিক অনুপস্থিতির (১৯৪৫ –এর পর থেকে) সাত দশক পেরিয়ে বহু তথ্য বহু কল্পকাহিনী ডানা মেলেছে । তার বেঁচে থাকার বহু তথ্য প্রকাশ্যে এলেও  নেতাজী মৃত এমন প্রমান আজও অনুপস্থিত ।  ব্রিটিশ-আমেরিকা ও এদেশীয় কংগ্রেশি দালালদের প্রচারণায় নেতাজী ১৯৪৫ সালের ১৮ই অক্টোবর প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন  । তারাই আবার যুব্ধাপরাধি দাবী করে  বিচারের জন্য জাতিসঙ্ঘের বেঁধে দেওয়া বিভিন্ন সময় সীমার মধ্যে নেতাজী ভারতে ফিরে আসলে যেন রাষ্ট্রসংঘের হাতে তুলে দেওয়া হয়  ।    অপর দিকে , স্বাধীন দেশে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায়   দেশি-বিদেশি  চক্রান্তে ও কতিপয় উচ্চবিলাসী সেনা সদস্যদের হাতে সপরিবারে প্রাণ দিতে হয় বঙ্গবন্ধুকে ।

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর গভীর আদর্শিক সম্পর্ক ইতিবৃত্ত স্থান পায়নি ইতিহাসের পাতায় । তবে ২০১২ সালে প্রকাশিত জেলখানায় বসে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা “ অসমাপ্ত আত্মজীবনী- তে সুভাষ-মুজিবের আদর্শিক সম্পর্কের অনেক চিত্র উঠে এসেছে। যেখানে মুজিব তার তরুণ বয়সে নেতাজীর ব্ধারা উব্দেলিত  আলোড়িত হওয়ার কথা শ্রব্ধার সঙ্গে স্বীকার করেছেন । অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লিখেছেন , তখন স্বদেশী আন্দোলনের যুগ। মাদারীপুরের পূর্ণ দাস তখন ইংরেজের আতঙ্ক । স্বদেশী আন্দোলন তখন মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের ঘরে ঘরে । আমার মনে হতো ,মাদারীপুরে সুভাষ বুসের দলই  শক্তিশালী ছিল । পনর –ষোল বছরের ছেলেদের স্বদেশীরা দলে ভেড়াত । আমাকে রোজ বসে থাকতে দেখে আমার উপর কিছু যুবকের নজর পড়ল । ইংরেজদের বিরুব্ধে ও আমার মনে বিরুপ ধারণা সৃষ্টি  হল । ইংরেজদের এদেশে থাকার অধিকার নেই। স্বাধীনতা আনতে হবে । আমিও সুভাষ বাবুর ভক্ত হতে শুরু করলাম । এই সভায় যোগদান করতে মাজে মাজে গোপালগঞ্জ – মাদারীপুর যাওয়া আসা করতাম । আর স্বদেশী আন্দোলনের লোকদের সাথেই মেলামেশা করতাম।

    তরুণ মুজিবের চোখের বেরি বেরি রোগের জন্য কয়েক বৎসর তার লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটে । ১৯৪০ সালে কলিকাতায় চিকিৎসা কালীন সময়ে শেখ মুজিব নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন  এবং কাউন্সিলর নির্বাচিত হন । কলিকাতার পুরনো দুর্গ উইলিয়ামে, যেটি বর্তমানে বিনয়-বাদল-দিনেশবাগ  বা বিবাদীবাগ নামে পরিচিত , একটি মিনার ছিল । যাকে বলা হতো  “ব্ল্যাক হোল “  । ব্রিটিশরা দাবী  করতো , সিরাজ-উদ-দউলা  এই মিনারের অপরিসর জায়গায় কয়েকজন ব্রিটিশ সেনাকে ডুকিয়ে  হত্যা করেছিলেন । আদতে বিষয়টি সত্য ছিলনা । নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু এই ব্ল্যাক হোল মিনারটিকে সরিয়ে ফেলার জন্য আন্দোলন শুরু করেন । শাসক ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয় এই মিনারটি সরিয়ে ফেলতে । সেই সময় নেতাজীর আদর্শে উব্দুব্ধ হয়ে তার ডাকে সাড়া দিয়ে  বঙ্গবন্ধু এই ব্ল্যাক হোল আন্দোলনে সামিল হন । এখানেই বঙ্গবন্ধুর  সাথে নেতাজীর প্রথম সরাসরি পরিচয় হয় ।এই কথা বঙ্গবন্ধু নিজে ১৯৭২ সালে নেতাজির ভাইয়ের ছেলে ডাঃ শিশির  কুমারকে বলেন কলিকাতা থেকে ,দেখা করতে এলে ।

    ১৯৪০ সালে নেতাজীকে কারামুক্ত করার জন্য যে  হলওয়েল মুভমেন্ট হয়েছিল কলিকাতায় ,সেই মুভমেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । সেখানে একটি  পরিকল্পনা হয়েছিল , পরিকল্পনাটি ছিল বিধানসভা ঘেরাও  করার । শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ছাত্র জনতার সেই বিশাল মিছিলের স্লোগান ছিল বিধানসভা ঘেরাও কর , সুভাষকে ছিনিয়ে আনো,মুক্ত কর ।ুতখন এউ দিনের কর্মসূচী সফল হয়েছিল । ওখানে একটি ঘটনা আছে ,তখন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী  জ্যোতি বসু বিধানসভার নব্য বিধায়ক । উনি মিছিল প্রতিরোধকারীদের একজন হিসাবে বাহিরে বেরিয়ে এসেছিলেন । বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল ।বিধায়কদের সঙ্গেও ছাত্রদের ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল । বঙ্গবন্ধুর ধাক্কায় জ্যোতি বসু পড়ে গিয়েছিলেন ।

    পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু যখন কলকাতায় গেলেন , তখন জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করে বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চেয়েছিলেন । জ্যোতি বসু সাংবাদিকদের  সাথে আলাপে জানিয়েছিলেন ,সেই চল্লিশের দশকের ঘটনায় বাহাত্তরে এসে ক্ষমা চাইতে এসেছে শেখ মুজিব, তিনি একজন গ্রেট লিডার । তার মানে নেতাজীর সঙ্গে তার রাজনীতির যে আদর্শ ও অনুপ্রেরনাগত, চিন্তা-চেতনার মিল তার সবই ছিল । আজকে আমরা বাংলাদেশকে যে স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে পেয়েছি তার মুলে বঙ্গবন্ধু অনুপ্রাণিত হয়েছেন নেতাজীর চিন্তাধারা থেকে । নেতাজীর সংগ্রামী জীবনাদর্শ তরুণ শেখ মুজিবের মনে গভীর দাগ কাটে । বঙ্গবন্ধুর আপোষহীন যে জীবন তার ভিত্তি অনুসন্ধানে আমরা খোঁজে পাব নেতাজীকে । কারাগারে মুজিব শ্রব্ধার সঙ্গে নেতাজীর ত্যাগের মহিমা বর্ণনা করেছেন তার  জীবনালেখ্যে । তিনি লিখেছেন , আমাদেরও ইংরেজদের বিরুব্ধে একটা জাত ক্রোধ ছিল । আমরা হিটলারের ফ্যাসিসট  নীতি সমর্থন করতাম না ,তথাপি  যেন কোথাও ইংরেজরা পরাজিত হলে আমরা আনন্দ হই । নেতাজী  অখণ্ড ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে শত্রুর  শত্রু অর্থাৎ ইংরেজের  শত্রু অক্ষ শক্তি জার্মান , জাপানের সাহায্য নেন। তিনি সমগ্র ভারতবাসীকে  অসাম্প্রদায়িক  জাতীয়তাবাদের চেতনায়    এউক্যবব্ধ করেন এবং দেশবাসীর  উব্দেশ্যে তার বহুল প্রচারিত সেই বিখ্যাত উক্তি “ তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দিব”  আহবান জানাতেন । নেতাজী দেশের বাহিরে  আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে  ভারতর্ষের হিন্দু ও মুসলমান সেনাদের দলে নিয়ে ইংরেজদের বিরুব্ধে  যোব্ধ করেছিলেন ।

    অন্যদিকে দেশ ভাগের পর বঙ্গবন্ধু কলিকাতা থেকে পূর্ব পাকিস্তান চলে আসেন এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামি মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন । ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার বিরুব্ধে এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার লক্ষ্যে কারাবন্দী থাকা অবস্থায় ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ভাষার অধিকার আদায়ে সফল হন ।তখন থেকেই বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করেন পশ্চিমাদের সাথে আর এক সাথে থাকা সনভব নয় । তাই সদুরপ্রসারি মুক্তির লক্ষ্যে  বঙ্গবন্ধু  ১৯৫৫ সালে ১৭ই জুন ঢাকার পল্টন ময়দান থেকে প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ব শাসনের দাবী তোলেন এবং একই বছরের ২১ শে অক্টোবর দলের  মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নাম রেখে দলকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে তোলেন । ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে ৬১ সালে সামরিক ও আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন ,৬৬সালে ৬ দফা ও ছাত্র সংগ্রাম  পরিষদের ১১ দফা , আগরতলা  ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯ এর গণ  ভুন্থানে নেতৃত্ব দিয়ে সকল ধর্ম,বর্ণের মানুষকে এক সূত্রে বেঁধে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটান ।

    এক সময়ে আন্দোলনের বাকে বাকে ১৯২০ সালের ১৭ই জানুয়ারি  জন্ম নেওয়া গোপালগঞ্জের টঙ্গি পাড়ার মধুমতী নদীর তীরে সেই অজ পাড়া গাঁওয়ের রাখাল বালক হয়ে গেলেন  জনগণের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমান । পাকিস্তানী শাসক গুষ্টির শাসন,শোষণ,বউস্ম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুব্ধে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপোষহীন । দীর্ঘ ২৩টি বছর পাকিস্তানি শাসক গুষ্টি বঙ্গবন্ধুকে কারাগারের  বন্দী  রাখেন এবং প্রচণ্ড দেশপ্রেম ও জনগণের  ভালবাসা বার বার তাকে কারাগার থেকে ফিরে আনে । বঙ্গবন্ধু  অনুধাবন করেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করতে গেলে নেতাজীর  দেখানো পথেই হাটতে হবে । শত্রুর শত্রু  অর্থাৎ বাংলাদেশের  শত্রু পাকিস্তান , আর পাকিস্তানের শত্রু ভারতের সাহায্য নিয়েই  বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে হবে ।

    সেই লক্ষ্যে কাজ করার জন্য ১৯৬১ সালে বঙ্গবন্ধু বিশিষ্ট ছাত্র নেতাদের নিয়ে “স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ “ নামে একটি গোপন সংগঠন  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । পরবর্তী সময়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা , অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে ভারতীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ এবং ৭ই মার্চের লক্ষ লক্ষ মানুষের সেই বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু  ঘোষণা করেছিলেন ,এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এর পাশাপাশি শ্রিউখল মুক্তির আহবান জানিয়ে বলেছিলেন ,রক্ত যখন দিয়েছি ,রক্ত আরও দিবো, ইনশাল্লাহ মুক্ত করে ছাড়বোই ।     ২৫শে মার্চ পাক বাহিনী বাঙালীদের উপর গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চ ভারত সহ সকল দেশের সাহায্য চাহিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা  করেন । পরিশেষে  দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুব্ধে  মুক্তিবাহিনী মিত্র বাহিনীর সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতায়  পাক বাহিনীকে পরাভূত করে বাংলাদেশ  স্বাধীন করে ইহাই বাস্তবতা ।

    বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলিকাতা সফরে গিয়ে রেড রোডে নেতাজীর বাসভবনে গিয়ে নেতাজীর প্রতিকৃতিতে অবনত শ্রব্ধা জানিয়েছেন তার আদর্শ পুরুষের প্রতি । পরবর্তীতে বাংলাদেশের  কোন সরকার প্রধান বা  রাজনীতিবিদরা উপমহাদেশের

    মুক্তিসংগ্রামের  মহানায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে স্মরণ রাখেননি ।  শ্রব্ধা জানায়নি সর্ব কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বীর বাঙালিকে ।

     

    Print Friendly, PDF & Email
    • 3
      Shares