Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    নুসরাত হত্যার ঘটনায় অন্যতম আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন আটক || কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবীতে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল || খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে সরকারপন্থি কয়েকটি মিডিয়া প্রতিদিন মনগড়া প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে:রিজভী আহম্মেদ || সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন শপথ নেবে না:বিএনপি || খালেদা জিয়ার জামিনে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই,বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন:মন্ত্রী আনিসুল হক || ‘খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইটির মোড়ক উন্মোচন || নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে:পুলিশ সদর দফতর || গণতন্ত্রে অবিশ্বাসীরাই ভোটের উৎসবকে কলুষিত করতে চায় || ২০৬ মামলার আসামি মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবীব-উন নবী খান সোহেলের মুক্তি কতদূর? || খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ||

    ভারতে বিএসএফের বিশেষ আদালতে খুনির শাস্তি চেয়ে ফিরে এলেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম

    November 20, 2014

    হারুন উর রশীদ,কুড়িগ্রাম ঃ-
    ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ সেক্টর সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে সাক্ষ্য দিয়ে দেশে ফিরে মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন,‘ভারতের আদালতে সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ফেলানী হত্যার সাক্ষ্যদেন। আমারে অনেক জেরা করছে। আমি ঠিকমত জবাব দিছি। বলছি দালাল মোশারফ আমারে সীমান্ত পার করার দায়িত্ব নিয়েছিল। ওরা তিন জন কাটাতারের বেড়ায় মই লাগিয়ে পার করে দিতে আসে। কিন্তুক বিএসএফ দেইখ্যা তারা পলায় যায়। আমি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখি। কিন্তু ফেলানীর সোয়টার কাটতারে আটকে যায়। এরপর বিএসএফ অমিয় ঘোষ মেয়েডারে আমার চোক্ষের সামনে গুলি কইর‌্যা মারে। আমি বাবা হয়ে তারে বাঁচাতে পারি নাই।
    কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন জানান, ফেলানীর বাবাকে জেরা এবং জবানবন্দি গ্রহন করেন ভারতের ডিফেন্স অফিসার মিস্টার সিন্ধু, তাকে সহযোগীতা করেন এসোসিয়েট অ্যাডভোকেট মি: আনন্দ জ্যোতি মজুমদার। বিএসএফের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেয় ভারতের পিপি বিপিন কুমার। আদালতে ৫ সদস্যের বিচারক মন্ডলির প্রধান ছিলেন ডিআইজি (কমিউনিকেশনস) সিপি ত্রিবেদী। এ সময় ফেলানী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম এবং পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন সাক্ষ্য দেয়ার সময় পর্যবেক্ষক হিসেবে এ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
    তিনি আরো বলেন, আদালতে ফেলাানীর বাবাকে অনেক জেরা করা হয়েছিল। তবে তিনি সঠিকভাবেই জবাব দিয়েছেন। পুন:বিচার শুরু হলেও একই আদালতে একই বিচারক ও একই ডিফেন্স ও প্রসিকিউটর কার্যক্রমে অংশ নেয় বলে একটু অজানা আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে এটাও সত্য যেহেতু পুনর্বিচার হচ্ছে, তাই  আইন অনুযায়ী এবার ভিন্নতর সাজা আশা করছি।
    কুড়িগ্রাম বিজিবি ৪৫ ব্যাটালিয়ন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম জানান,  সাক্ষ্য দেয়ার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র। কোন প্রশ্ন করা হয়নি তাদের। তিনি জানান, আদালতে অমিয় ঘোষ বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন। এ আদালতের কার্যক্রম আরো কয়েকদিন চলবে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং সর্বনি¤œ ৭ বছর কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।

    ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে ফেরার সময় ভারতের চৌধুরীহাট বিএসএফ ক্যাম্পের অমিয় ঘোষ ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট কোচবিহার জেলার সোনারী এলাকায় ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়। সেবার আদালতে স্বাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু ও মামা আব্দুল হানিফ। ওই বিচারে বিএসএফ সদস্যকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয়া হয়। এই রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানী হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারের কাছে আবেদন করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। কোচবিহারের বিএসএফ সেক্টর সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার কার্যক্রম শুরু হয় গত ২৩ সেপ্টেম্বর। আদালতে স্বাক্ষ্য দেয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ৪৫ বিজিবির সদর দপ্তর থেকে ভারতের পথে রওয়না হন ফেলানীর বাবা কিন্তু ঐ আদালত মুলতবি হয়ে যাওয়ায় সে যাত্রায় তারা ফিরে আসেন। দ্বিতীয়বারের মতো গত রোববার (১৬ নভেম্বর) সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ভারতে যায় ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু।

    Print Friendly, PDF & Email