Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ সকালে বমি করেছেন,কিছুই খেতে পারছেন না:মির্জা ফখরুল || রাজধানী ঢাকার কোনো রুটেই সু-প্রভাত বাস চলবে না: মেয়র আতিকুল ইসলাম || আবরার আহাম্মেদকে চাপা দেয়া বাসটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে বিআরটিএ || নিউজিল্যান্ডের মুসল্লিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথম সংসদীয় অধিবেশন শুরু করা হয়েছে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। || দক্ষিণ আফ্রিকায় জাকের হোসেন নামের এক বাংলাদেশিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা || কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন সাবেক ছাএ নেতা সামসুল আলম || বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে চেয়ারম্যান পদে ফিরোজ হায়দার || সিমেন্টের বদলে বালি আর রডের বদলে বাঁশ দিবেন না: গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ || তাঁতী দলের উদ্যোগে আব্দুল আলী মৃধার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হবে || অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ||

    লাকসামে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার পেট্রোল-পেট্রোলিয়াম দ্রব্য

    March 5, 2019

    সেলিম চৌধুরী হীরা:-
    লাকসাম উপজেলা ৮টি ইউনিয়নে ও পৌরশহরসহ গ্রাম-গঞ্জের হাট বাজার গুলোতে বিক্রি হচ্ছে নি¤œমানের ও মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার। গ্যাস সিলিন্ডারের সাথেই একই স্থানে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল-পেট্রোলিয়াম দ্রব্য। পানের দোকান থেকে শুরু করে জুতার দোকান পর্যন্ত লাইসেন্স বিহীন বিপদজনক অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস, পেট্রোল-পেট্রোলিয়াম দ্রব্য। ফলে যে কোন সময় অগ্নিকান্ড ও সিলিন্ডারের বিষ্ফোরনে ঘটতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা। পৌরশহর ও ইউনিয়নের গ্রামে হাটবাজারে প্রায় দু’শতাধিক দোকানে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার। বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই দোকানের সামনে এমনকি ফুটপাতে সিলিন্ডার রেখে ব্যবসায়ীরা এলপি গ্যাসসহ পেট্রোল-পেট্রোলিয়াম দ্রব্যের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
    সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে রেখে এমন রমরমা ব্যবসার নজির দেশের অন্য কোথাও নেই। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রæত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। জনার্কীণ এলাকায় যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে বিক্রি হচ্ছে, পৌরশহরের বাইপাস, উত্তর বাজার, চৌদ্দগ্রাম রোড, দক্ষিন বাজার, ধান বাজার, নোয়াখালী রেলগেইট, পুরান বাসষ্ট্যান্ড, কলেজ রোড, আল-আমিন স্কুল সংলগ্ন, রাজঘাট, নশরতপুর, জংশন বাজারসহ,রাস্তার উপর সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়া করিয়ে রেখেছেন গ্যাস সিলিন্ডার ও খোলা বাজারের পেট্রোল- পেট্রোলিয়াম।
    ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর, মুদি দোকান, হার্ডওয়্যার, ফাষ্টফুড, কসমেটিক, তেল বিক্রয়, ফ্লেক্সিলোডের দোকানসহ হাইওয়ে রাস্তার কাছে, ফুটপাতে গ্রামের রাস্তার মোড়ে ফার্মেসীতেও থান কাপড় বিক্রির দোকানে এমনকি ফল দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাসে সিলিন্ডার। এলপি গ্যাস সিলিন্ডারগুলো দোকানের সামনে বা ভিতরে খোলামেলা অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বিষ্ফোরন ও প্রানহানির ঘটনা। এসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ দোকানই তা মানছে না। অচিরেই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এসব বন্ধের আহবান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কথা হয় কয়েকজন এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। তারা জানান, এলপি গ্যাস ও পেট্রোল বিক্রয় নিয়মকানুন তারা জানেন না কি ভাবে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স করতে হয় তাও জানেন না তারা। অধিক লাভের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রাল মজুত বিক্রয় করছেন। কোন কোন দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও তার বেশির ভাগই মেয়াদ উর্ত্তীণ। গ্যাসের আবাসিক সংযোগ বন্ধ থাকায় দিন দিন এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার কারীরা সংখ্যাও বাড়ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা শুধু দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এর মধ্যে আবার অনেক দোকানের ট্রেড লাইসেন্সও নেই। ফলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা আইনের তোয়াক্কা না করেই দোকানের সামনে ও রাস্তায় এবং অবৈধ গুদামে বাসা বাড়ীতে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক উপজেলার এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করার কথা থাকলেও অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।
    বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর অধীনে গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা ২০০৪ এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া অনধিক ১০টি গ্যাসপূর্ন সিলিন্ডার মজুত করা যাবে। তবে বিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী এসব সিলিন্ডার মজুত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমানে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং আগুন নিয়ন্ত্রক সরঞ্জাম মজুত রাখতে হবে। সিলিন্ডার গ্যাস স্থাপনা প্রসঙ্গে দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোন বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুত করার স্থানের কাছাকাছি আলো বা তাপের উৎস থাকা যাবে না। এসব আইনের তোয়াক্কা না করে চা দোকান থেকে আরম্ভ করে ভেরাইটিজ ষ্টোরেও বিক্রি হচ্ছে এ গ্যাস সিলিন্ডার। ব্যাপক চাহিদার থাকার কারনে অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের মনগড়া ভাবে যেখানে-সেখানে ফেলে ব্যবসা করছে। ঝুকিপূর্ন এ জ্বালানী যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই এসব দোকানের।
    পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের বলেন, বেশ কয়েকটি অগ্নিকান্ডের দূর্ঘটনা ঘটনার প্রেক্ষিতে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে আমরা প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে ফায়ার ফাইটার সিলিন্ডার স্থাপনের জন্য পৌরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমরা যখন ব্যবসায়ীক লাইসেন্স প্রদান করি তখন ফায়ার ফাইটার সিলিন্ডার সংযোজন হয়েছি কিনা জিজ্ঞেস করি।
    এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.কে.এম সাইফুল আলম বলেন, ইদানিং কালে বেশ কয়েকটা অগ্নিকান্ডের ঘটনার পথ থেকে সরকারী ভাবে এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যে সমস্ত অবৈধ ব্যবসায়ীরা এই ব্যবসার সাথে জড়িত আছে তাদেরকে প্রাথমিক ভাবে সতর্কের সাথে সাথে প্রত্যেকটা বাজার কমিটির মাধ্যমে সচেতন করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হবে।

    Print Friendly, PDF & Email
    • 241
      Shares