Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    কোনো কেন্দ্রে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়ার বিষয়টি আমি বাস্তবসম্মত বলে মনে করি না:সিইসি কেএম নূরুল হুদা || শপথ গ্রহণ নিয়ে দোটানায় নির্বাচিত বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা || একটি অভিনব প্রতিবাদ || খালেদা জিয়ার আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি ৩০ এপ্রিল || আড্ডা দিতে এসে ঢাবিতে যৌন হয়রানির শিকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী, অভিযোগকারীরাই থানায় || ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অশুভ আঁতাতের ফসল:সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ||  মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে জেড খনিতে ভূমিধসে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি || সরকারে প্রথম ১০০ দিন ছিল উদ্যমহীন, উৎসাহহীন, উচ্ছ্বাসহীন, উদ্যোগহীন: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। || শেখ সেলিমের নাতি জায়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও বেশ প্রিয় ছিল || দরকষাকষির দৃষ্টান্ত কার আছে সেটি আওয়ামী নেতারা নিজেরাই জানেন,না জানলে আপনাদের নেত্রীকে জিজ্ঞেস করুন: রুহুল কবির রিজভী ||

    সখিপুরে মানব বর্জ্য থেকে জৈব সার প্রস্তুতে অভাবনীয় সাফল্য

    February 9, 2019

    সখিপুর(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ –
    টাঙ্গাইলের সখিপুরে মানব বর্জ্যকে কঠিন পচনশীল বর্জ্যের সাথে মিশিয়ে কো-কম্পোষ্ট প্লান্টের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে কৃষি জমিতে ব্যবহারের জৈব সার। “মানব বর্জ্য, পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য, শহরের ময়লা-আবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করি” এই শ্লোগান নিয়ে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল সখিপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড পাহাড়ী অঞ্চল সেলামির চালা নামক স্থানে ২৫ শতাংশ জমির উপর স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে এবং ওয়াটার এইডের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সখিপুর কো-কম্পোষ্ট প্লান্ট স্থাপিত হয় ।প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র পৌরসভার ৪০ হাজার মানুষের পয়ঃ ও কঠিনবর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করলেও গত তিন বছরে এখন এটি সখিপুর উপজেলার প্রায় অর্ধেক মানুষকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এই ব্যবস্থাপনায় স্বল্প মূল্যে বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান থেকে পয়ঃ ও কঠিন বর্জ্য যেমন: মানব মলমূত্র,গৃহস্থালির পচনশীল ও অপচনশীল আবর্জনা সংগ্রহ করে তা থেকে প্রস্তুত করা হয় কৃষি জমিতে ব্যবহারযোগ্য জৈব সার। প্রথম অবস্থায় ছোট আকারে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে গত তিন বছরে পৌরসভা ছাড়িয়ে উপজেলার অর্ধেক মানুষের পয়ঃ ও কঠিনবর্জ্য নিষ্কাশনে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে উপজেলার শতভাগ মানুষের পয়ঃ ও কঠিনবর্জ্য নিষ্কাশনে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন কো-কম্পোষ্ট প্লান্টের উদ্যোক্তারা। এই কো-কম্পোস্ট প্লান্ট চালু হবার পূর্বে সখিপুর পৌরসভার সকল বর্জ্য আশে পাশের নদী-নালা ও খালের পানিতে মিশে যেতো। ফলে পয়ঃ ও কঠিন বর্জ্যে পরিবেশ,জলবায়ূ দূষিত হতো । উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, কো-কম্পোষ্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে মনুষ্য বর্জ্যকে কঠিন বর্জ্যের সাথে ব্যবহার ঊপযোগী করে তৈরি করে একদিকে যেমন পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমছে অন্যদিকে এই কাজ করে উদ্যোক্তারা আর্থিক ও ব্যবসায়ীকভাবে লাভবান হচ্ছেন। গত তিন বছরে এই কো-কম্পোষ্ট প্লান্টের মাধ্যমে দূষণের হার ৪৬ শতাংশে নামিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে সখিপুর পৌরসভার পয়ঃ ও কঠিনবর্জ্য থেকে দূষণের হার শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং একইসাথে সখিপুর হবে বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম শতভাগ পয়ঃ ও কঠিন বর্জ্য দূষণমুক্ত পৌরসভা । আর্থিক ও ব্যবসায়ীকভাবে লাভবান হওয়ার কারনে গত ১৯ জানুয়ারি কো-কম্পোষ্ট প্লান্টের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে স্থানীয় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স জোয়া এন্টারপ্রাইজ’ এর সাথে পরিচালনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোন পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্যোক্তা ভিত্তিক ব্যাবসায়িক মডেল চালু হলো।

    এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুর রহমান বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কো-কম্পোস্টিং পদ্ধতি অনেক ভালো একটা পদ্ধতি। দূষিত পরিবেশের এই যুগে পরিবেশ ,জলবায়ূ দূষন রোধে- এই ব্যবস্থাপনাযুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এইরকম উদ্যোগ নেওয়ায় সখিপুর পৌরসভাকে ধন্যবাদ।

    Print Friendly, PDF & Email