Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    আমরা যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি : প্রধান বিচারপতি || কুয়েতে প্রবাসী নেতা আহম্মেদ আলী মুকিবকে এম.পি চাই শীর্ষক আলোচনা সভা ভন্ডুলের অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলেন আওয়ামী গুপ্তচর কাজী মঞ্জুরুল আলম || আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার – ড. খন্দকার মোশাররফ || নৌকা-সাম্পান নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের বন্যার্তদের ত্রাণ দিতে দেখা যায়নি: আবদুল্লাহ আল নোমান || জিয়াউর রহমানের শাসনামল অবৈধ হলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও অবৈধ’:বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল || সরকার দেশে সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে : ফখরুল || ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশেনের মেয়র আনিসুল হক অসুস্থ হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি || প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করেছেন || বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের, আনিসুল ও মাহবুবে আলম || গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসির সংলাপ:সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন ||

    মতিঝিল-রমনা-পল্টন থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কে?

    pnbd24:-ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কে? এ নিয়ে তুমুল আলোচনা। চলছে বিচার বিশ্লেষণ। মতিঝিল-রমনা-পল্টন থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড এ আসনের আওতাভুক্ত। সরজমিনে দেখা গেছে এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়া জাতীয় পার্টি বা অন্য কোনো দলের নির্বাচনী তৎপরতা নেই বললেই চলে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে। নির্বাচনে তিনি পরাজিত করেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুন নবী খান সোহেলকে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেনন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী রাশেদ খান মেনন এবারও এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। মেনন নিজেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, স্থানীয় নির্বাচনী এলাকার সরকারদলীয় নেতারা জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার তারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন। আর দলীয় সূত্রে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, তাতে এই নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের প্রার্থিতার বিষয়ে এখনো তেমনভাবে কেউ প্রচার প্রচারণায় নামেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই নির্বাচনী এলাকায় থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের বেশির ভাগেরই ১৪ দলীয় জোট প্রার্থী মেননের প্রার্থিতার বিষয়ে আপত্তি নেই। মেননের প্রতি আস্থা রেখে আসনটি তাকে ছেড়ে দিতে রাজি তারা। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারো জোটবদ্ধ নির্বাচন করলে মেননই এই আসনে প্রার্থী হবেন বলে তাদের ধারণা। যদিও ঢাকা-৮ নির্বাচনী আসনের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কিছু অংশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মেননের রয়েছে দূরত্ব। অবশ্য সংসদ সদস্য হিসেবে মেননের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কোনো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তাদের নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে এখানকার নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই তারা মেনে নেবেন। সেক্ষেত্রে রাশেদ খান মেননকে যদি আবারো মনোনয়ন দেয়া হয়, তার পক্ষেই তারা কাজ করবেন। মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বশির উল আলম খান বাবুল মানবজমিনকে বলেন, প্রার্থিতার বিষয়ে এখনো তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। আর আমরা এ বিষয়টি নেত্রীর উপর ছেড়ে দিয়েছি। তিনি এখানে যাকেই মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই আমরা কাজ করবো। দল যে সিদ্ধান্ত দেয় সেই সিদ্ধান্তই আমাদের মানতে হবে। যদি রাশেদ খান মেননকে আবারো মনোনয়ন দেয়া হয়, তাতেও আমাদের আপত্তি নেই। তিনি আরো বলেন, মেনন কারো উপকার করতে না পারলেও কারো ক্ষতিতো উনি করেননি। দুর্নীতি বা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেননি। তাই তাকে মেনে নিতে আমাদের আপত্তি নেই। আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মানবজমিনকে বলেন, আমি নির্বাচন করবো। তবে, এর বেশি কিছু আমি এখনই বলতে চাই না।
    এদিকে ঢাকা-৮ নির্বাচনী আসনে প্রার্থিতার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর ও থানা পর্যায়ের বেশ কজন প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। এই আসনে মনোনয়নের দাবিদার দলটির শীর্ষ দুই নেতা মির্জা আব্বাস ও হাবিবুন নবী খান সোহেল। সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন নিয়ে ইতিমধ্যে দুজনের মধ্যে শুরু হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। বিএনপির দুই কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতার মনোনয়নের বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরাও রয়েছেন কিছুটা দ্বিধা দ্বন্দ্বে। তবে, নির্বাচনে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক, দলের স্বার্থে তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানান থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতা। বিএনপির যুগ্ম মগাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল অনুসারীদের মতে, ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে সোহেলের। একই সঙ্গে তরুণ নেতা হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং এই এলাকার থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের একটি অংশের নেতাকর্মীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার। আর মির্জা আব্বাসের বিষয়ে সোহেলের অনুসারীদের অভিযোগ, দলের সিনিয়র নেতা হয়েও বিগত সময়ের আন্দোলনে এই নির্বাচনী এলাকায়তো বটেই ঢাকা মহানগরেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন মির্জা আব্বাস। যে কারণে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির একটি অংশের ক্ষোভ রয়েছে মির্জা আব্বাসের প্রতি। দলের হাইকমান্ড এ বিষয়টি মাথায় রেখে এই আসনে আবারো হাবিবুন নবী খান সোহেলকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা সোহেলের অনুসারীদের। হাবিবুন নবী খান সোহেল মানবজমিনকে বলেন, আসলে আমরা এখন আগামী সংসদ নির্বাচনের চাইতে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ের আন্দোলনের পথে আছি। সঙ্গত কারনেই কোন আসনে কে প্রার্থী হবে এ বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি। তবে, আমি এটি বলতে পারি, আমি ঢাকা থেকেই নির্বাচন করবো। সেটি কোন আসন থেকে তা পরবর্তীতে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসন নির্ধারণ করে দেবেন। হাবিবুন নবী খান সোহেল আরো বলেন, আগে একটি আসন পুনর্বিন্যাসের পর এখানে দুটি (ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯) আসন হয়েছে। ঢাকা-৮ এ আমার আগ্রহ থাকলেও মির্জা আব্বাস সিনিয়র নেতা। ওই দুটি আসন থেকে যে যেখান থেকে নির্বাচন করবে সেটি পরে ঠিক করে নেয়া যাবে।
    এদিকে মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা বলছেন, মির্জা আব্বাস বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা, সাবেক মন্ত্রী। আসন পুনর্বিন্যাসের আগে (মতিঝিল, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ, মুগদা, খিলগাও) এই এলাকার এমপি হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাকে নিয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও তিনি অতীতে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। নেতাকর্মী ও মানুষের সঙ্গে থেকেছেন। এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়াতে নিজস্ব কিছু ভোটও রয়েছে তার। সোহেলের বিষয়ে আব্বাসের অনুসারীদের অভিযোগ, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর এই নির্বাচনী এলাকায় খুব একটা পা পড়েনি হাবিবুন নবী খান সোহেলের। বিগত সময়ের সরকারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। এসব বিবেচনায় এই আসনে মির্জা আব্বাসকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা। মতিঝিল থানা বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ মানবজমিনকে বলেন, মির্জা আব্বাস এই এলাকার এমপি হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাও তিনি। সে হিসেবে তিনি এই আসনে মনোনয়ন পেতেই পারেন। তবে, সবকিছুই নির্ভর করছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর। তিনি যদি মনে করেন এই আসনে পরিবর্তন দরকার তাহলেই পরিবর্তন হবে। রমনা থানা বিএনপির সভাপতি আরিফুল হক মানবজমিনকে জানান, দলের স্বার্থে মির্জা আব্বাস বা সোহেল যেই মনোনয়ন পান তার পক্ষেই তিনি কাজ করবেন। তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। এই দল থেকে যে কেউ মনোনয়ন চাইতেই পারেন। একাধিক প্রার্থীও থাকতে পারে। তিনি বলেন, আমি ১৮ বছর ধরে এই এলাকায় ওয়ার্ড কমিশনার ছিলাম। ৩২ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করছি। আমিও মনোনয়ন চাইছি। তবে, দলের স্বার্থটা বড়। আমাদের দলের নেত্রী এখানে যাকে মনোনয়ন দেবেন আমি তার পক্ষেই কাজ করবো। আর মনোনয়ন নিয়ে মির্জা আব্বাস ও সোহেলের মধ্যে কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্ব হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    Print Friendly, PDF & Email