Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    আমরা যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি : প্রধান বিচারপতি || কুয়েতে প্রবাসী নেতা আহম্মেদ আলী মুকিবকে এম.পি চাই শীর্ষক আলোচনা সভা ভন্ডুলের অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলেন আওয়ামী গুপ্তচর কাজী মঞ্জুরুল আলম || আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার – ড. খন্দকার মোশাররফ || নৌকা-সাম্পান নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের বন্যার্তদের ত্রাণ দিতে দেখা যায়নি: আবদুল্লাহ আল নোমান || জিয়াউর রহমানের শাসনামল অবৈধ হলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও অবৈধ’:বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল || সরকার দেশে সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে : ফখরুল || ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশেনের মেয়র আনিসুল হক অসুস্থ হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি || প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করেছেন || বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের, আনিসুল ও মাহবুবে আলম || গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসির সংলাপ:সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন ||

    নি র্বা চ নী হা ল চা ল ঢাকা ১৮ :আলোচনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নতুন মুখ

    pnbd24:-রাজধানীর উত্তরপ্রান্তে বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল স্বতন্ত্র এক নগর উত্তরা। উচ্চবিত্তের বসবাসে গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় পরিণত হয় সে নগর। পাশাপাশি সারা দেশ থেকে আসা উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের হাতধরে উত্তরা দিনদিন সম্প্রসারিত হচ্ছে পূর্ব-পশ্চিমে। পূর্বাংশে স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রাধান্য থাকলেও পশ্চিমাংশে গড়ে উঠছে একের পর এক আবাসিক এলাকা। বিমানবন্দরের দক্ষিণে গড়ে উঠেছে আরেকটি আবাসিক এলাকা নিকুঞ্জ। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সময় উত্তরাকে কেন্দ্র করে আশপাশের ৮টি থানার সমন্বয়ে গঠিত হয় নতুন নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৮। হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, র‌্যাব ও এপিবিএন’র হেডকোয়ার্টার এবং হজ ক্যাম্পের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান এখানে। নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাস্তাঘাটের প্রয়োজনীয়তা ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির চাহিদা। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন নাগরিক সংকট। সবমিলিয়ে উত্তরা এখন একটি বিকাশমান ও সমস্যাজর্জর এলাকা। আগামী নির্বাচনে বড় দুই রাজনৈতিক দলেই একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন এ আসনে।
    পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৫ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার ছেড়ে দেয়া আসনে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি’র মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদে বিজয় ধরে রাখলেও একই সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের একেএম রহমতউল্লাহর কাছে পরাজিত হন। অষ্টম সংসদে রহমতউল্লাহকে হারিয়ে তৃতীয় মেয়াদে এমপি হন মেজর (অব.) কামরুল। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে ঢাকা-৫ (সাবেক)-এর উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ভাটারা থানার একাংশের সমন্বয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১৮। সেবার এ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট সাহারা খাতুন ও বিএনপি’র প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। এমপি নির্বাচিত হয়ে সাহারা খাতুন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে স্বরাষ্ট্র এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দশম সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করছেন আওয়ামী লীগের এ এমপি। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তিনি। ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি রাজপথের পোড়খাওয়া এ নেত্রী আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য। নির্বাচনী এলাকায় তার রয়েছে শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার। টুঙ্গীপাড়ার মেয়ে নাজমা ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। ’৮৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে রোকেয়া হল ছাত্রী সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় যুব মহিলা লীগ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নাজমা আক্তার পরের সম্মেলনগুলোতে নির্বাচিত হয়ে এখন সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনিও। এছাড়াও মনোনয়ন চাইতে পারেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাবিব হাসান ও দক্ষিণখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সাহারা খাতুন সিনিয়র নেত্রী। দলের রাজনীতি এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তিনি সচেষ্ট। কিন্তু বয়সের কারণে আগের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারেন না। এছাড়া তার চারপাশের কিছু লোকজনকে নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
    অন্যদিকে বিএনপিতে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে তিন নেতাকে কেন্দ্র করে। তারা হলেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর ও তরুণ ব্যবসায়ী নেতা বাহাউদ্দিন সাদী। বিএনপি’র রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী চরিত্র মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম। খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেয়া আসনে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হওয়া এ নেতা পরে ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করেন। নানা কারণে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি তিনি। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী তিনি। মহানগর উত্তর বিএনপি’র কয়েকজন নেতা ও নির্বাচনী আসনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তার পক্ষে প্রাথমিক প্রচারণাও শুরু করেছেন।
    অন্যদিকে ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকে প্রথমে ছাত্রনেতা ও পরে যুবনেতা হিসেবে মহানগর উত্তরের রাজনীতিতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন যুবদল মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের পক্ষে বড় ভূমিকা রাখেন। পরের নির্বাচনেই এ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ওঠে আসে জাহাঙ্গীরের নাম। বিএনপি’র কর্মসূচি কিংবা খালেদা জিয়ার উত্তরাঞ্চল-দক্ষিণাঞ্চল সফরকে কেন্দ্র করে নানা সময়ে খিলক্ষেত থেকে আজমপুর পর্যন্ত জাহাঙ্গীরের অনুসারীদের বিপুল শোডাউন ছিল চোখেপড়ার মতো। ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আসামি হয়েছেন দেড় শতাধিকের বেশি মামলার। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছাত্রদল ও যুবদল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চান উত্তরা বিএনপি’র রাজনীতি। সর্বশেষ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দুইপক্ষের মারামারির ঘটনায় তার দিকে ওঠে অভিযোগের আঙুল। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপিতে কিছুটা হলেও গ্রহণযোগ্যতা কমিয়েছে তার। তারপরও ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি’র টিকিট পাওয়ার শক্ত দাবিদার তিনি। ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি’র রাজনীতিতে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে নতুন একটি নাম। তিনি তরুণ ব্যবসায়ী নেতা ও জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ বাহাউদ্দিন সাদী। সক্রিয় রাজনীতিতে তার আগমণ সাম্প্রতিক হলেও তিনি যুক্ত হয়েছেন দলের দুঃসময়ে। যার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের আস্থা অর্জন করেছেন কম সময়ে। আগামী একাদশ নির্বাচনে বিএনপি’র টিকিট প্রত্যাশী হিসেবে সমর্থন পাচ্ছেন উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীর। নানা কারণে তিনিও ঢাকা-১৮ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের শক্ত দাবিদার। উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখান বিএনপি এবং অঙ্গদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপে ওঠে এসেছে স্থানীয় বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ মেরুকরণের এ চিত্র। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক হেলালউদ্দিন তালুকদার বলেন, দলের কাছে আমাদের দাবি ও প্রত্যাশা একটাই। বিপদের দিনে নেতা-কর্মীদের ফেলে বিদেশে চলে যাওয়া বা গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলাকারীদের যেন মনোনয়ন দেয়া না হয়।
    ঢাকা-১৮ আসনের দুইটি কমন নাগরিক সমস্যা গ্যাস সংকট ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। দক্ষিণখানের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে দক্ষিণখান ও তুরাগের রাস্তাঘাটে উন্নয়ন বা সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাটগুলো হয়ে পড়েছে চলাচলের অনুপযোগী। এ নিয়ে এলাকাবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে পূর্বমুখী রাস্তা ধরে রেলক্রসিং পার হলেই শুরু দক্ষিণখানের সীমানা। দক্ষিণখান, কসাইবাড়ি, গাওয়াইর, নগরিয়া বাড়ি ও মোল্লার টেক এলাকার বিপুল সংখ্যক বাসিন্দার যোগাযোগের প্রধান সড়ক এটি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তাদের যাতায়াতের নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে কাদাপানির দুর্ভোগ। মোল্লারটেকের বাসিন্দা শুক্কুর আলী বলেন, দুইদশক ধরেই এমন হাল দেখে আসছি রাস্তাটির। উত্তরা সেকান্দার মার্কেট থেকে দক্ষিণখান, গাওয়াইর-নগরিয়াবাড়ি, আজমপুর-শাহ কবির মাজার, আবদুল্লাহপুর-আটিপাড়া, আশকোনা হজক্যাম্প-দক্ষিণখান, কাওলার-শিয়ালখাল হয়ে দক্ষিণখান, শাহ্‌ কবির মাজার-আটিপাড়া এবং দক্ষিণখান-বরুয়া প্রতিটি সড়কের হালই এমন। তুরাগ থানার নলভোগ, তারারটেক, ফুলবাড়িয়া, দলিপাড়া, বাদালদী ও বাউনিয়া গ্রামের বাসিন্দাদেরও বড় সমস্যা রাস্তাঘাট। একই পরিস্থিতি হরিরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। দক্ষিণখান ইউনিয়নের বাসিন্দা আবিদুর রহমান বলেন, এখানকার বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী তীব্র গ্যাস সংকট। এ সমস্যা নিরসনে বহুবার তিতাসের কাছে আবেদন করলেও সমাধান মেলেনি। প্রেমবাগানের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের সকালের নাস্তা করতে হয় শুকনো খাবারে। ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় রান্না হয় রাতের বেলা, গৃহিণীদের নির্ভর করতে হয় এলপিজি সিলিন্ডার, রাইসকুকার, প্রেসারকুকারের ওপর। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক হেলালউদ্দিন তালুকদার বলেন, উত্তরখান-দক্ষিণখান ও ফায়দাবাদে গ্যাসের সংযোগ আছে কিন্তু সরবরাহ অপ্রতুল। লাইনের পাশাপাশি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়। উত্তরা নামে আছে কাজে নেই। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে উঠলেও ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। যার কারণে যানজট হয়ে উঠেছে অসহনীয়। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। অন্যদিকে রাজধানীর উত্তরাসহ আশপাশের এলাকার আদি বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপে তারা একটি দুঃখবোধ প্রকাশ করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে কোনো নির্বাচনেই বড় দলগুলো বৃহত্তর উত্তরার কোনো আদি বাসিন্দাকে প্রার্থী করেনি। এমনকি উত্তরায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এমন কেউ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাননি। প্রতিবারই জাতীয় সংসদে বিকাশমান ও সমস্যাজর্জরিত উত্তরার প্রতিনিধিত্ব করেছেন বহিরাগত বা ঢাকার অভিজাত এলাকায় বসবাসকারী। ফলে উত্তরার সমস্যাগুলো তাদের হৃদয়ে রেখাপাত করেনি, তাই সমাধানের কার্যকর উদ্যোগও আসেনি। স্থায়ী উন্নয়নের জন্য আগামী নির্বাচনে স্থানীয় বা উত্তরায় স্থায়ীভাবে বসকারীদের মধ্যেই প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দুই দলের প্রতিই আহ্বান তাদের।
    বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, আমি সারা বছরই নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যেই আছি। যেদিন জয়ী হয়েছি তার পরদিন থেকেই নতুন করে এলাকাবাসীর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হওয়ার জন্য যে প্রস্তুতির দরকার তা আমার আছে এবং প্রতিদিনই সে প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনী এলাকার সমস্যা ও সমস্যা সমাধানে নেয়া নানা উদ্যোগের ব্যাপারে সাহারা খাতুন বলেন, ঢাকা-১৮ আসনের উন্নয়নে আমি নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। হজক্যাম্প এলাকায় বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, বঙ্গমাতা সরকারি হাইস্কুল, উত্তরখানে একটি সরকারি স্কুল, উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে সরকারি হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, ফায়ার ব্রিগেড ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠা করেছি। ঢাকা উইমেন্স কলেজের ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছি। আমার সময়ে উত্তরায় মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাহারা খাতুন বলেন, উত্তরা-নিকুঞ্জ-খিলক্ষেতসহ এলাকার নতুন রাস্তা নির্মাণ ও পুরনো রাস্তার সংস্কার করেছি। রাস্তাঘাট তো স্থায়ী নয়- বর্ষাকালে ভেঙে যায়, নষ্ট হয়। ফলে এ সমস্যাটার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রাস্তাঘাট ভাঙবে, মেরামত করতে হবে এটাই স্বাভাবিক। এ মেরামতের উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব আমার এবং আমি কোনোদিন দায়িত্বের ব্যাপারে উদাসীন নই। রাস্তাঘাটের সংস্কার করা হচ্ছে। আমি নিষ্কর্মাও নই, কমিশনও খাই না। সাহারা খাতুন বলেন, উত্তরা এলাকায় গ্যাসের সমস্যা রয়েছে। গ্যাসের নতুন উত্তোলন না থাকায় সরকার গ্যাস সংযোগ দিতে পারছে না। তারপরও একটি সাব-স্টেশন করার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি, জমির অভাবে এখনও সেটা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তবে আমি যখন যেটা চেয়েছি প্রধানমন্ত্রী কোনোদিন না করেননি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী নাজমা আক্তার বলেন, আমি রাজনীতির কর্মী, সবসময় রাজনীতিই করি। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে উত্তরায় বসবাস করি, এখানকার মানুষজন আমাকে চেনে। স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। নাজমা আক্তার বলেন, এ আসনে আমাদের সিনিয়র নেত্রী সাহারা আপা রয়েছেন। তিনি ভালো কাজ করছেন। কিন্তু আমিও রাজনীতি করি, মানুষের সঙ্গে কাজ করি। নির্বাচিত হলে কাজ করার সুযোগ এবং পরিসর বাড়বে। রাজনীতিতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকেই। আমি আমার মতো করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভেতরে ভেতরে কাজ করছি। যদি সুযোগ পাই তাহলে নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা আছে। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাহারা আপা ভালো করছেন, আমি সুযোগ পেলে আরও ভালো করতে চাই।
    বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের জন্য আমাকে উত্তরা এলাকা গোছাতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমি কাজ করছি। প্রার্থী হিসেবে আমার এবং দল হিসেবে বিএনপি’র সবসময় নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গদলগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন। এখন দলের মধ্যে ছোটখাট দ্বন্দ্ব-কোন্দলগুলো মিটিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলে ঢাকা-৫ (সাবেক) আসন ভেঙে গঠিত নতুন ৪টি আসনেই ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত। তবে সরকারের অনেক উচ্চস্তরের কর্মকর্তা, বড় বড় ব্যবসায়ী ও অনেক ভালো ভালো মানুষের বসবাস উত্তরায়। সেখানে তাদের মনোভাব বুঝে, স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন করে প্রার্থী দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের জন্য রাজনীতিতে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা দরকার। দেশকে এগিয়ে নিতে ভালো লোকের দরকার এবং নতুন প্রজন্মের লোক দরকার। নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত, মেধাবী ও স্বপ্নবান অনেকেই রাজনীতিতে আসছেন। নতুন প্রজন্মকে সামনে আসতে দিতে হবে। পিতার জায়গায় সন্তান আসবে এটা বিশ্বাস করি না। কেউ এলে তাকে ফুলটাইমার হতে হবে। মেজর (অব.) কামরুল বলেন, জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, গ্যাসের সংকট, যানজট মিলিয়ে উত্তরা এখন পরিণত হয়েছে একটি সমস্যা জর্জরিত এলাকায়। বছরের পর বছর ধরে রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেরামতের কোন উদ্যোগই নেয়া হচ্ছে না। মেজর (অব.) কামরুল বলেন, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আমরা যখন খালেদা জিয়াকে নিয়ে ক্যাম্পেইনে বের হতাম তখন টঙ্গিব্রিজ থেকে বোটে ওঠে নামতাম রামপুরা ব্রিজে। এখন সেখানে অলিগলিতে গাড়ি চলে। আমাদের সময়ে গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছি। রাজউক মডেল কলেজ ও উত্তরা মহিলা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, স্কলাসটিকা স্কুল, বিআইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা ক্লাবকে জায়গা দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র আমলে আমরাই প্রতিটি স্কুলের ৩লা ভবন করেছিলাম।
    বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে আমার পথচলা শুরু। তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, কলেজ সংসদের ভিপি, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের আহ্বায়ক-সভাপতি, মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে ধারাবাহিক দায়িত্ব পালন করে এখন মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। তিনি বলেন, আমি দুই দশকের বেশি সময় ধরে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের স্থায়ী বাসিন্দা। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সামাজিকভাবে এলাকাবাসীর সঙ্গে আমার একটি আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ঢাকা-১৮ আসনের অধীন প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গদলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই আমার সঙ্গে রয়েছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক পেলে আমি সেটার সম্মান রাখতে পারবো। এলাকার সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, উত্তরখান-দক্ষিণখান-তুরাগের রাস্তাগুলো দেখলে বুঝা যাবে না এখানে কোনো জনপ্রতিনিধি আছে। এছাড়া মাদকের মাধ্যমে যুবসমাজের বিপথগামী হওয়ার প্রবণতা উত্তরার একটি বড় সমস্যা। বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী বাহাউদ্দিন সাদী বলেন, এই মুহূর্তে নির্বাচনী প্রার্থিতা নিয়ে আমরা ভাবছি না। এই এলাকার সকল নেতাকর্মীদের একটি ইউনিফাইড এবং কম্বাইন্ড প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটা নিয়েই আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। আমাদের এখানে প্রান্তিক তৃণমূল নেতাকর্মীরা অবিশ্বাস্য রকম দুঃসময় পার করছে। আমরা আপাতত এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং পাশাপাশি দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও সুনির্দিষ্ট করে গোছানোটাই প্রাধান্য দিচ্ছি।

    Print Friendly, PDF & Email