Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    বিমানবন্দর সড়কের বাতি জ্বলেনি:নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান || রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে:ইইউ ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত রেনসিয়া তিরিঙ্ক || সিইসি’র ব্যাখ্যায় আওয়ামী লীগ সন্তুষ্ট:নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদের || নেতাকর্মীদের বিপুল সংবর্ধনায় সিক্ত হয়ে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া || আকস্মিকভাবে শিরোনামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা || ‘চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’:দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী || শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানের প্রস্তাবনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আজ সংলাপে বসছে আওয়ামী লীগ || দুই মাসের বেশি সময় লন্ডন অবস্থানের পর আজ দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া || খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এটা ঠিক নয়: আইজিপি একেএম শহীদুল হক || ডাকসুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ||

    দিনাজপুরের চড়ারহাট গণহত্যা দিবস ১০ অক্টোবর

    October 10, 2017

     

    মোঃ মাহমুদুল হক মানিক, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি-
    ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার চড়ারহাট গণহত্যা দিবস। গ্রামবাসী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগণ জানান, ওই দিন ৫ নং পুটিমারা ইউনিয়নের দুটি গ্রামের ৯৮ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে পাকিস্তানী সেনারা নির্বিচারে গুলি করে মেরে ফেলে।

    নবাবগঞ্জ উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ রহমান ও শহীদ পরিবার সূত্রে জানা যাায়, চড়ারহাট (প্রাণকৃষ্ণপুর) গ্রামের ২ জন মহিলাসহ ৬৭ জন ও পার্শ্ববর্তী আন্দোলগ্রাম সরাইপাড়া গ্রামের ৩১ জন গ্রামবাসী সেদিন পাক সেনাদের গুলিতে মারা যান।

    চড়ারহাট প্রাণকৃঞ্চপুরে পুরুষদের একত্রিত করে গ্রামের পূর্বদিকের শেষ প্রান্তে একটি বীজ তলায় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। আন্দোলগ্রামে পাক সেনারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরুষদের গুলি করে হত্যা করে।

    পাক সেনাদের গুলিবর্ষণ থেকে চড়ারহাট গ্রামের ৮ ব্যক্তি সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। বেঁচে থাকলেও তাঁরা পাক সেনাদের ছোঁড়া গুলির আঘাতের ক্ষত আর স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছেন।

    তাদেরই একজন শহীদ মনছের আলীর পুত্র চড়ারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মোজাম্মেল হক (৬৯)। সেদিন তিনি পাক সেনাদের হাতে তাঁর বাবা এবং ছোট ভাই মকবুল হোসেনকে হারিয়েছেন। তিনিও হয়েছেন গুলিবিদ্ধ।

    মোজাম্মেল হক বলেন, সেদিন তিনি ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যান। মসজিদে ১০/১২ জন নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি মোঃ মফিজ উদ্দিনসহ অনেকেই খবর দেন যে, পাক সেনারা ডাকছে। ভাঙ্গা সেতু নির্মান করতে মাটি কাটতে হবে। পাক সেনাদের কথা শুনে বুকটা কেঁপে ওঠে। কিন্তু মুরুব্বিদের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে সকলেই আমরা গ্রামের পূর্ব দিকে একটি মাঠে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি গ্রামের প্রায় সকল পুরুষ মানুষকে একত্র করা হয়েছে। এর পর পাক সেনারা নির্বিচারে ব্রাশ ফায়ার করে। এতে মোজাম্মেল হকের বাবা এবং ছোট ভাই মারা যান। তিনি বাম পা এবং ডান হাতে গুলি বিদ্ধ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পাক সেনারা তাঁকে মৃত ভেবে চলে যাওয়ায় তিনি সেদিন বেঁচে যান।

    পাক সেনাদের গুলিতে বেঁচে যাওয়া মৃত ইব্রাহীম সরকারের পুত্র ডা. ইয়াহিয়া সরকার বলেন, তিনি বাসায় ফজরের নামজ পড়ে জায়নামাজে বসে ছিলেন। এমন সময় তাঁর বড় ভাই ও মফিজ উদ্দিন তাঁকে ও তাঁর ছোট ভাই একরামুল হক সরকারকে পাক সেনাদের সঙ্গে মাটি কাটতে হবে বলে ডেকে নিয়ে যান। পাক সেনাদের গুলিতে তাঁরা তিন ভাই গুলিবিদ্ধ হলেও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।

    গ্রামের শহীদ আব্দুল গফুরের পুত্র আব্দুুর রাজ্জাক (৫৬) জানান , মসজিদে আশ্রয় নেয়া পুরুষেরা বেঁচে যান। কিন্তু পাক সেনারা বাড়ি বাড়ি তল্লাশী করে যে সকল পুরুষ মানুষ পেয়েছে তাদেরকে সেখানেই গুলি করে মেরে ফেলে। আমার বাবা ও মামা তছির উদ্দিনকে আমাদের বাড়ির সামনেই মেরে ফেলে। তিনি জানান পাক সেনারা এ গ্রামের ৩১ জন পুুরষকে মেরে ফেলে।

    এ অঞ্চলের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম ঘটনা চড়ারহাট গণহত্যা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও শহীদরা পায়নি কোন মর্যাদা। তাঁদের পরিবার পায়নি তেমন কোন সরকারী সহায্য বা সহযোগিতা। বাবা ও ভাইকে হারানো গুলিবিদ্ধ মোজাম্মেল হক বলেন, সরকার থেকে যারা শহীদ হয়েছিলো তাদের জন্য মাত্র ১ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিলো। এখানে ছিলোনা কোন স্মৃতি স্তম্ভ। অযতœ আর অবহেলায় বদ্ধভুমিটি পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে।

    নব উদ্যোগঃ অবহেলার ৪০ বছরের মাথায় ২০১১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার ফোরাম ও মুক্তিযোদ্ধা অজিত রায় এর উদোগ্যে চড়ারহাটে নিহত শহীদের স্বরনে স্মৃতি স্তম্ভটি নির্মত হয়।
    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার নেতৃবৃন্দ শহীদদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে চড়ারহাটে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় ও শহীদ স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে।

    আগামীকাল নিহত ও আহত পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় নানা আয়োজনে মধ্যদিয়ে চড়ারহাট ট্রাজেডী দিবস ১০অক্টোবর পালন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। দুপুরে শহীদদের স্বরনে বিশেষ দোয়া মাহফিল ও সৃতি স্তম্ভে পুস্পমাল্য করবেন বলে জানা গেছে ।

    Print Friendly, PDF & Email