Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    বিমানবন্দর সড়কের বাতি জ্বলেনি:নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান || রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে:ইইউ ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত রেনসিয়া তিরিঙ্ক || সিইসি’র ব্যাখ্যায় আওয়ামী লীগ সন্তুষ্ট:নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদের || নেতাকর্মীদের বিপুল সংবর্ধনায় সিক্ত হয়ে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া || আকস্মিকভাবে শিরোনামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা || ‘চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’:দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী || শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানের প্রস্তাবনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আজ সংলাপে বসছে আওয়ামী লীগ || দুই মাসের বেশি সময় লন্ডন অবস্থানের পর আজ দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া || খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এটা ঠিক নয়: আইজিপি একেএম শহীদুল হক || ডাকসুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ||

    দেশের নাগরিকরা সরকারের ভোগান্তির শেষ প্রান্তে:গয়েশ্বর

    October 10, 2017

    রিপোটার্স: নানা: দেশের নাগরিকরা সরকারের ভোগান্তির শেষ প্রান্তে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন,আজকে বাংলাদেশের গোটা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে আমার কাছে মনে হয় সবকিছু শেষের আগে যেসব অস্বাভাবিক ঘটনা গুলো ঘটে এই সরকার তেমনি আচরণ করছে। দেশের জনগন তাদের ভোগান্তির শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন। মঙ্গলবার(১০ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সুশাসন ও নাগরিক অধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামের একটি সংগঠন আলোচনা সভাটির আয়োজন করে।
    সরকার আদালত ব্যবস্থাকে মুজিবীকরণ করতে চায় মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন,’দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে তাহলে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল একটি সরকার যদি থাকে এবং সে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংবিধানকে যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় এবং আইনের শাসন যদি প্রতিষ্ঠিত করা হয় তাহলে সেখানে সুশাসন থাকে আর এ আইনের শাসনটাকে নিশ্চিত করে স্বাধীন বিচার বিভাগ। স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং প্রশাসন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে নাগরীক অধিকার নিশ্চিত করার ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সরকার সেই বিচার বিভাগ কেউ মুজিবী করণ করতে চায়। তিনি বলেন,’যেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকেনা, সেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আইনের শাসনের তোয়াক্কা করেনা।এ জন্যেই খুন, গুম আর জঙ্গিবাদের নাটকের মধ্য দিয়ে দেশ চলছে। বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন,’আজকে আদালতের পাশ দিয়ে আসার সময় লক্ষ করলাম রাস্তার দুইপাশে বড় বড় ফেস্টুন টানানো আর সেখানে লেখা আছে মাদার অব হিউম্যানেটি।মনে হল যারা এই শব্দটা যার বেলায় অবতারনা করেছেন, তারা জনগণের সাথে মসকরা করেছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দেশি এবং আন্তর্জাতিক প্রতি বছর রির্পোট ছাপে যে বাংলাদেশে মানবাধিকার নেই।আর সেই দেশ অন্যায় ভাবে জনগণের সমর্থন ছাড়া পেশি শক্তির বলে প্রশাসনকে দলীয় ক্যাডার হিসেবে কাজে লাগিয়ে যারা ক্ষমতায় আছেন সেই ক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তিদের যখন মাদার অব হিউম্যানেটি বলে সেটা জনগণের সাথে মসকরা, ঠাট্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রধান বিচারপতির ছুটির প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন,’গত দুই তারিখে যা ঘটে গেলে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেলেন।এর আগেও কিন্তু তিনি এক মাসের ছুটিতে গিয়েছিলেন কিন্তু তখন তার ছুটি নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে কোনো ধরনের কথা ওঠেনি। কারণ সেই ছুটি টা ছিলো যথারীতি এবং তার নিজের ইচ্ছায়। সেই ছুটির দরখাস্ত রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করছে কি করছে না সেটা কিন্তুপত্র -পত্রিকায় আসেনি। কারণ এটা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নিজের ছুটি তিনি নিজেই নেন এবং বঙ্গ ভবনের রেজিস্টার কর্তৃক অনুমোধিত হয়। ছুটিকালিন সময়ে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগ দেন এবং অনুমোদন করেন। কিন্তু এবার যখন তিনি ছুটি নিলেন তার পরের দিন বিচারপতিদের সমন্বয়ে নৈস্যভোজের আয়োজন করলেন। শেখ হাসিনা নোবেল পাওয়ার যোগ্য!এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন,’শান্তির জন্য নয়,অর্থনীতির জন্য নয় গুমের জন্য তিনি নোবেল পাওয়ার যোগ্য। এমনকি ৫ ই জানুয়ারির অদ্ভূত নির্বাচনের জন্য তার নোবেল পাওয়া উচিৎ ছিল। যেহেতু নোবেল কমিটি তাকে দেয় নাই তাই আওয়ামী লীগেল নেতৃবৃন্দের উচিৎ নীল খেত থেকে একটি নোবেল কিনে তাকে দেয়া। সেখানে অনেক নোবেল পাওয়া যায়। একই আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন,’এই সরকার থাকা অবস্থায় সুশাসন ও নাগরিক অধিকারের কথা ভাবা ঠিক হবে না। বাংলাদেশে সুশাসন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া,বিএনপির সরকার ৪ দলীয় জোটের সরকার।সেই গণতন্ত্রের নেত্রী চিকৎসার জন্য লন্ডনে আছেন তিনি সাধারণত দেশের বাহিরে জাননা ডাক্তারের পরামর্শে নিজেকে বাঁচানোর জন্য লন্ডনে গেছেন। সেখানে তার পরিবার আছে। চিকিৎসা শেষ হয় নাই এটা আল্লাহ জানে কিন্তু কোর্ট তাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করছে যাতে করে তিনি দেশে না ঢুকতে ভয় পায়। এসময় তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,’আমাদের নেত্রী তো আসবেই। আপনাকে বলবো আপনার পাশে আপনার একমাত্র বিশেষ দূত এরশাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন এই নেত্রী কোন নেত্রী এটা আপোষহীন নেত্রী,জেল জুলুম ক্ষমতার লোভ কোন কিছু যাকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করেনি।তাকে আপনি গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়ে দিলেন।ডাক্তার বলা মাত্র যদি আজকে বলেন কালকে তিনি চলে আসবেন। কি করবেন আপনি?গ্রেফতার করবেন। বুঝে শুনে করবেন। আপনি গায়ের জােড়ে ক্ষমতায় আছেন। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আছেন। আপনাকে রক্ষা করছে জনগন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারের উদ্দেশ্য শামসুজ্জামান দুদু আরও বলেন,’সামনে নির্বাচন আসছে এখনি ভয় পাইছেন,খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে দিলেন? আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে। কিন্তু সত্যটা কি জানেন শেখ হাসিনা সেই নির্বাচন পরিচালনার জন্য থাকবেন না। তাকে পদ্যাগ করতে হবে। বিরোধী দলের নেত্রীর সমান সামান নেত্রী হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। আপনি মনে করছেন ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকবেন সে আশা গুড়ে বালি।যে স্বপ্নই দেখেন দু:স্বপ্নে পরিনত হবে। এবার নির্বাচন হবে বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নিবে আর সেটা হবে তত্তাবধায়ক সরকারের অধিনে। ২০ দল জয় লাভ করবে। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবে এটাই হল সত্য কথা। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব এ.কে.এম মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব নাজিমউদ্দিন নাজিম মাস্টার,ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দীন আহমেদ,বাগের হাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড.কাজী মনিরুজ্জামান মনির,সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

    Print Friendly, PDF & Email