Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    রাজনেতিক হস্তক্ষেপ হলে ২০১৮’র বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ করা হবে স্পেনকে:ফিফা || লাখো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হতে পুরোপুরি প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ || রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর || আগামী বিজয় দিবস সরকারিভাবে বিএনপিই পালন করবে :বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা বাণীতে আহম্মেদ আলী মুকিব || ১৬ ডিসেম্বর আমদের গর্বিত এবং মহিমান্বিত বিজয় দিবস: বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া || ১৯৭১ সালের এদিনে আমরা প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হই:বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম || চশমা হিলের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশেই শায়িত হলেন সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী || বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অনেকের বিচার হয়েছে, অনেকে পালিয়ে আছে: ওবায়দুল কাদের || রাজধানীর মিরপুর বু‌দ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জা‌তির শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।  || শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ||

    মিয়ানমারের রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক তদন্তের আহবান জাতিসংঘের

    December 5, 2017

    pnbd24:-মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার হোতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রা’দ আল হোসেন। তিনি এই নৃশংসতাকে ব্যাপক, পর্যায়ক্রমিক ও হতাশাজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, এটা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বৈষম্যমুলক ও নিষ্পেষণমুলক পদক্ষেপ। তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই ‘পাগলামো’ অবিলম্বে বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে। এর মাধ্যমে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে এ আহ্বান জানান তিনি।

    জায়েদ রা’দ আল হোসেন প্রশ্ন রাখেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার স্বীকৃতি নিজ দেশের সরকার ও বিশ্বের তরফ থেকে মেলার আগে, তাদের পরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতি মেলার আগে আর কত মানুষকে এই নৃশংসতা সয়ে যেতে হবে?
    জায়েদ রা’দ আল হোসেন পরিষদের কাছে আহ্বান জানান যেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশমালা পাঠানো হয়, যাতে একটি পক্ষপাতহীন, নিরপেক্ষ ‘মেকানিজম’ প্রতিষ্ঠা করা যায়। এবং তার ফলে গঠন করা হয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। সর্বশেষ সহিংসতা ও নির্যাতনের তদন্তে এটা করতে হবে। এটা করা হলে যারা এই নৃশংসতার জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তে সহায়তা করা হবে।
    তিনি বলেন, কয়েখ দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্রহীনতা, অমানবিক বৈষম্য ও বিচ্ছিন্নতা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে জোরপূর্বক স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। গ্রাম, ঘর-বাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। সেখানে গণহত্যার সকল বৈশিষ্টই রয়েছে। এই বিষয়টি কেউ অস্বীকার করতে পারে না। মোদ্দাকথা এই যে, একটি উপযুক্ত আদালতই এই আইনি সিদ্ধান্তটি নিতে পারে। কিন্তু এই বিষয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে তা খুবই গুরুতর এবং স্পষ্টতই তাৎক্ষণিকভাবে এর আরো যাচাই বাছাইয়ের অনমোদন দরকার। জাতিসংঘ অনুসারে, ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২রা ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এই সংখ্যা রাখাইনে বসবাসকারী মোট রোহিঙ্গার অর্ধেকেরও বেশি। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার বেশির ভাগই এসেছে এ বছরের আগস্টে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর। মিয়ানমার সরকার বলেছে, উত্তর রাখাইনে তাদের সাম্প্রতিক অভিযান ছিল বিদ্রোহীদের হামলার প্রতিক্রিয়া।
    হোসেন বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও শরণার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য তার দপ্তর থেকে বাংলাদেশে ৩টি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে। তারা বলেছে, রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে। ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষদেরকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, পলায়নপর নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, নারী ও মেয়েদেরকে ধর্ষণ করা হয়েছে, বাড়ি-ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও মসজিদগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক সেখানে অব্যাহতভাবে মানবাধিকারের তীব্র লঙ্ঘনের বিষয়টি তিনি মানবাধিকার পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদ উভয়কেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যৌন সহিংসতাসহ রোহিঙ্গাদের ওপর যেসব নির্যাতন চালানো হয়েছে তা খুবই বিরল। রোহিঙ্গাদের ‘রোহিঙ্গা’ নামে অভিহিত করার ক্ষেত্রে, তাদেরকে একটি সম্প্রদায় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ও তাদের আত্মপরিচয়কে সম্মান জানাতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নেতাদের অস্বীকৃতি লজ্জাজনক বিষয়। এটি একটি ‘প্যারাডক্স’ তৈরি করেছে। তারা রোহিঙ্গাদের অস্বীকার করছে। কিন্তু সেই পরিচয়ের জন্যই আবার তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে।
    তিনি সঙ্কটের মূল কারণ চিহ্নিত না করে ও যথাযথ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের অনুপস্থিতিতে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কোন অপরিপক্ক সিদ্ধান্তের বিষয়ে সতর্ক করেন। ১৯৯০ সালের কথা উল্লেখ করে বলেন, তখন রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীরা ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু পরে আবারো তারা রাখাইন ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। হাই কমিশনার বলেন, বিশ্ব এই মর্মান্তিক নৃশংসতাকে ভুলভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি সমর্থন করতে পারে না। তাদেরকে তীব্র বৈষম্য ও সহিংসতার মধ্যে ফিরে যেতে বাধ্য করতে পারে না। ভবিষ্যতে তা নিশ্চিতভাবে আরো ভোগান্তির সৃষ্টি করবে, বাস্তুচ্যুত হবে আরো মানুষ।

    Print Friendly, PDF & Email