Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    শিক্ষা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে ঘাঁটি গেড়েছিলেন তারা || ২১তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) || নির্বাচনকালীন সরকার যেটি হবে সেটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যেই হবে:আমির খসরু মাহমুদ || নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে || দুপুর বেলাও বিএনপি মনে করছে রাত শেষ হয়নি: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী || সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশী সহ নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯ বিদেশী শ্রমিক || সিরিয়ার আফরিনে কুর্দিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে তুর্কি সামরিক বাহিনী || ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা || ভিডিও >> সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল’কে ন্যাংটো করে দিলেন ‘উৎসাহী জনতা’ || অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে:শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ||

    রাজধানীর মহাখালী থেকে নব্য জেএমবি’র তিন সদস্য গ্রেপ্তার

    December 15, 2017

    pnbd24:রাজধানীর মহাখালী থেকে নব্য জেএমবি’র তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। তারা হচ্ছে- আবদুস সামাদ ওরফে আরিফ মামু ওরফে আশিক, সামাদের শ্বশুর জিয়াদুল ইসলাম ও মো. আজিজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে শিশির। এর মধ্যে সামাদ নব্য জেএমবি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তামিম চৌধুরীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ২০০টি ডেটোনেটর, একটি নাইন এমএম পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
    গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময় নব্য জেএমবির উচ্চপর্যায়ের নেতারা গ্রেপ্তার এবং মারা গেলে সামাদের নেতৃত্বেই এ নিষিদ্ধ সংগঠনটি সংগঠিত হয়।

    তামিম চৌধুরী-সামাদ কল্যাণপুর ও মিরপুরে প্রায় ডজন খানেক জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামাদই সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তার মেহেদী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই বছর ধরে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে বলে জানান মনিরুল ইসলাম।
    সিটিটিসি’র প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, জিহাদি প্রশিক্ষণও নিয়েছে মেহেদী। সামাদের শ্বশুর জিয়াদুল চাঁপাই নবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নব্য জেএমবির জন্য অস্ত্র-বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর সংগ্রহের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করতো। দিনাজপুরের সামাদ ২০০২ সালে দাওরা হাদিস এবং ২০১১ সালে ফাজিল পর্যন্ত লেখাপড়া করে। ২০১০ সালে জেএমবিতে যোগ দেন সামাদ।
    আর জিয়াদুল চতুর্থ শ্রেণি ও আজিজুল দাখিল মাদরাসায় নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সালে তামিম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে ‘জুনদ আল তাওহীদ আল খিলাফাই’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলে সামাদ। তামিম ছিল ওই সংগঠনের প্রধান আর সামাদ ছিল ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। বোমা তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ‘পারদর্শী’ সামাদ সংগঠনের সদস্য ও অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতো।
    মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, অস্ত্র চালানো ও গ্রেনেড ব্যবহারে সংগঠনের নবীন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিত আব্দুস সামাদ। নব্য জেএমবির উচ্চপর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার বা নিহত হওয়ার পর তার নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়। নব্য জেএমবির অস্ত্র সরবরাহকারী ছোট মিজান ও সোহেল মাহফুজের চাঁপাই নবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আনা অস্ত্র ও ডেটোনেটরগুলো জিয়াদুল তার মাছের খামারে লুকিয়ে রাখতো।
    সাংবাদিক সম্মেলনে নব্য জেএমবির সদস্য সংখ্যা জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, নব্য জেএমবির হাজার হাজার সদস্য ছিল না। হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ার ঘটনার বাইরে একজনই এক থেকে সর্বোচ্চ ২২টি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হলি আর্টিজান হামলা পরবর্তী সময়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ নব্য জেএমবি’র সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৮০ জন মারা গেছে। তবে সংগঠনটি এখন বিপর্যস্ত। নতুন কোনো ঘটনা ঘটানোর ক্ষমতা তাদের নেই বলে জানান মনিরুল ইসলাম।

    Print Friendly, PDF & Email