Recent Comments

    ব্রেকিং নিউজ

    বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতি স্মরণ করেছে মহান ভাষা শহীদদের || জিয়া পরিবারকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশে তৎপর এক শ্রেণীর হলুদ পত্রিকা ও সাংবাদিকেরা : রুহুল কবির রিজভী || চাঁদপুরে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাসহ আটক ৭ || রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের মধ্যদিয়েই আমরা অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে পারি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা || একটি গণতন্ত্রহীন দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষা, নির্দয় একনায়কতন্ত্রের ভাষা:রুহুল কবির রিজভী || খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা ও রায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত:সৌদিআরব বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকিব || অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন : লুই মার্সেল || সাহস থাকলে নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন:হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে নজরুল ইসলাম খান || বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর নিন্দা ও প্রতিবাদ || বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে ২৫ যুক্তিতে আপিল করেছেন আইনজীবীরা ||

    তারেক রহমানকে নিয়ে আ.লীগ নেতারা বেসামাল কথা বলছে : রুহুল কবির রিজভী

    February 13, 2018

    আবুল বাশার নানা:-‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে হামলার সঙ্গে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান জড়িত বলে দাবি করেছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট রায় দিয়ে কারাবন্দী করে রাখার পরেও ক্ষমতাসীনদের ক্রোধের পরিতৃপ্তি হচ্ছে না। তারা এখন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে নাজেহাল করার জন্য, তাদের আক্রমণের শিকার করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। তাঁকে হাতের নাগালে না পেয়ে আওয়ামী নেতারা ক্রুদ্ধ উন্মত্তায় বেসামাল হয়ে কথাবার্তা বলেন’ বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ন বক্তব্য নিম্নরূপ।

    সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
    আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে হামলার সঙ্গে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান জড়িত বলে দাবি করেছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট রায় দিয়ে কারাবন্দী করে রাখার পরেও ক্ষমতাসীনদের ক্রোধের পরিতৃপ্তি হচ্ছে না। তারা এখন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে নাজেহাল করার জন্য, তাদের আক্রমণের শিকার করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। তাঁকে হাতের নাগালে না পেয়ে আওয়ামী নেতারা ক্রুদ্ধ উন্মত্তায় বেসামাল হয়ে কথাবার্তা বলেন। এরই প্রতিফলন আমরা প্রতিদিনই দেখছি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য বিবৃতিতে।

    বিএনপি গণতান্ত্রিক আদর্শে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপি’র ঐতিহ্যে গণতন্ত্র বিনাশী বাকশালের মতো একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের কোন নজীর নেই। বরং ভিন্ন মতের নানা দলের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা পূণ:প্রবর্তন করেছিলেন এদেশের স্বাধীনতার ঘোষক কীর্তিমান মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তাঁর সহধর্মীনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার স্বৈরাচারের খাঁচা থেকে মুক্ত করেছিলেন গণতন্ত্রকে। সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জাতীয় রাজনীতিতে এগিয়ে এসেছেন তাঁদের সুযোগ্য সন্তান জনাব তারেক রহমান। তাঁরা আমাদেরকে শিখিয়েছেন গণতন্ত্রের আওতার মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও আন্দোলন করতে। শান্তি, সহমর্মিতা, সহাবস্থান বিএনপি’র অনুসঙ্গ। শহীদ জিয়া এবং বেগম জিয়ার মতো জনাব তারেক রহমানও কখনোই নির্দেশ দেননি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদেরকে উস্কানী দিয়ে অমানবিক নিষ্ঠুর আচরণ করতে। কখনোই তাঁরা দলের নেতাকর্মীদেরকে সহিংসতার পথে ঠেলে দেননি। রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি সহিষ্ণু আচরণ করা বিএনপি’র শিক্ষা। কারন বিএনপি বহু মত ও পথের একত্র অবস্থানে বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ একদলীয় একমাত্রিক সত্তার অস্তিত্বের উত্তরাধিকার বহন করে চলছে। হুমকি, হুংকার, ক্ষমতাক্ষুধা, সন্ত্রাসের পরিকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে অনাচার-অপকীর্তির দ্বারা নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী একটি দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে খুন, জখম আর ব্যাপক নির্যাতন নেমে আসে বিরোধী দলের ওপর।

    আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হুমকির দৃষ্টান্তই কেবলমাত্র আওয়ামী নেতাদের। আপনি নিশ্চয়ই ভুলে যাননি একটা লাশের বদলে প্রতিপক্ষের দশটা লাশ ফেলে দেয়ার হুমকি কে দিয়েছিলেন, আপনি কী টাঙ্গাইলের এমপি লতিফ সিদ্দিকীর সেই হুমকির কথা বেমালুম ভুলে গেছেন, যিনি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন-বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে হত্যা করতে। সম্প্রতি নিহত গাইবান্ধার এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এক নিষ্পাপ কিশোরের পায়ে গুলি চালিয়ে যে নিষ্ঠুরতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেটিও নিশ্চয় আপনার ভুলে যাবার কথা নয়। আরেকজন এমপি কাজী জাফরুল্লাহ ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়ে বলেছিলেন অস্ত্র দিয়ে মানুষের হাত কাটার। নারায়ণগঞ্জের আপনাদের স্বনামধন্য এমপি শামীম ওসমানের সেই হুমকি বচনটির কথা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি হুংকার দিয়ে বলেছিলেন বিএনপি’র চুনোপুঁটিদের দমন করতে শামীম ওসমান একাই যথেষ্ট। প্রয়োজনে তাদেরকে ঘর থেকে ধরে এনে দশ হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলবো। দেশব্যাপী আরো গডফাদারদের হুমকির কথা আর না হয় নাই বললাম। জনাব ওবায়দুল কাদের নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন বাবুকে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে নির্মমভাবে হত্যা করে কারা লাশের ওপর নৃত্য করেছিল সেটিও আপনি সেদিনের টেলিভিশনের সেই ফুটেজ সংগ্রহ করে আর একবার দেখে নেন-কারা সেই পাশবিক হত্যাকারী, কীভাবে তারা আইনের হাত থেকে রেহাই পেলো। হুমকি, হুংকার, অশ্রাব্য-কুশ্রাব্য গালিগালাজ এগুলো আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি ও তাদের অঙ্গের ভূষণ। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসের উপাসনাকারী দল।
    গণতন্ত্রের অগ্রগতির সাথে সভ্যতার অগ্রগতি হয়। বিএনপি গণতন্ত্রকে অগ্রসর করার আপোষহীন সংগ্রামী একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ বিএনপি’র উর্দ্ধতন নেতারা গণতন্ত্রের পরিসীমার মধ্যে মানবিক মর্যাদা, সুরুচি, সুসংস্কৃতিকে উর্দ্ধে তুলে ধরে কথা বলার শিক্ষা দিয়েছেন দলের নেতাকর্মীদের। লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দুতাবাসে হামলার পেছনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জড়িত বলে ওবায়দুল কাদের সাহেব যে দাবি করেছেন সেটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অসত্য। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এধরণের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

    এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে সারাদেশে আজ যারা গ্রেফতার হয়েছেন:
    চট্রগ্রাম দক্ষিণঃ
    বাঁশখালী পৌর বিএনপির সাধারণ স¤ক্সাদক খোরশেদ আলম আইয়ুব, পটিয়া পৌরসভা যুবদলের সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান, পুকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল আজিম, হাজী সাবের আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, মুবিন মেম্বারসহ ২০ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।
    বরিশাল মহানগরঃ
    যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল হাসান রতন, মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহবায়ক খন্দকার আবুল হোসেন লিমনসহ ৯ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।
    ফেনী জেলাঃ
    জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ইদ্রিশ আলী, জেলা বিএনপির নেতা মোঃ মানিক, ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রদল নেতা মোঃ শাহাদৎ উল্লাহ, নাজিম উদ্দিন নাজিম, ইকবাল হোসেনসহ ১১ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।
    ময়মনসিংহ দক্ষিণঃ
    ত্রিশাল পৌর যুবদল নেতা আলমসহ ৩ জন গ্রেফতার।
    মেহেরপুর জেলাঃ
    সদর থানা যুবদল প্রচার স¤ক্সাদক আবদুর রহিম, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমানসহ ৫ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।
    জয়পুরহাট জেলাঃ
    জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ ৩ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।
    পঞ্চগড়: সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবু দাউদ প্রধান, জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মানিকসহ সমগ্র জেলায় গত ২/৩ দিনে গ্রেফতার করে অর্ধশতাধিক ।
    ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ থেকে আমাদের প্রাপ্ত তথ্যমতে এখন পর্যন্ত সারাদেশে গ্রেফতারের সংখ্যা:
    গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত : প্রায় ৪৪০০ জন।
    আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি : প্রায় ১৫০ জন।
    ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে আজ ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ পর্যন্ত মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ঃ ৪৫৫০ জনের অধিক।
    অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকৃত সকল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় যে সকল নেতাকর্মী আহত হয়েছেন তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।
    ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

    Print Friendly, PDF & Email